শিক্ষক আন্দোলনে ববি স্থবির, পরীক্ষা বন্ধে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
- / 17
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতি ইস্যুতে শিক্ষকদের একাডেমিক শাটডাউন—স্থগিত সেমিস্টার ফাইনাল, সেশনজটের আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষকদের ঘোষিত একাডেমিক শাটডাউনের জেরে ক্লাস-পরীক্ষা কার্যত বন্ধ। পদোন্নতির দাবিতে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে চলমান সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায়। পূর্বঘোষিত সূচি থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ বিভাগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট ক্ষোভ, তার সঙ্গে অনিশ্চয়তার চাপও।
গত ২০ এপ্রিল থেকে এই শাটডাউন কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ আন্দোলনের আওতায় ফাইনাল পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে যারা সেমিস্টারের শেষ ধাপে ছিল, তাদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে ধাক্কা হিসেবে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে তাঁদের শিক্ষাজীবন আরও পিছিয়ে যেতে পারে—যে সেশনজট কাটাতে বিশ্ববিদ্যালয় আগে কিছুটা অগ্রগতি দেখিয়েছিল, সেটিও আবার দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিতে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পদোন্নতির ক্ষেত্রে অভিন্ন নীতিমালার কিছু শর্ত পূরণে ঘাটতি রয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষকদের একটি অংশের। শুধু তাই নয়, আগের কিছু পদোন্নতি নিয়েও আপত্তি রয়েছে সংস্থাটির। ফলে বিষয়টি এখন আর কেবল দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; প্রশাসনিক ও নীতিগত জটিলতাও এতে জড়িয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হতাশা ক্রমেই প্রকাশ্য হচ্ছে। ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজিদুল করিম সাদি উপাচার্যের উদ্দেশে বলেন, তাঁদের অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষা চলছিল, ২৩ এপ্রিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল নির্ধারিত। কিন্তু চলমান আন্দোলনের কারণে সেটিও অনিশ্চিত। তাঁর কথায়, “আমরা তো আগেই দুই বছর পিছিয়ে আছি। পরীক্ষার খাতায় এখনও ‘সেমিস্টার ফাইনাল ২০২৪’ লিখতে হয়। এখন যদি বাকি পরীক্ষাগুলোও আটকে যায়, তাহলে আবার কয়েক মাসের সেশনজটে পড়তে হবে।” তিনি দ্রুত একটি কার্যকর সমাধানের আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই ধরনের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে নুসরাত আফরিন নামের এক শিক্ষার্থী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়লেও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা যেন উপেক্ষিত। তাঁর মন্তব্যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে—গ্রাম থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রত্যাশা, আর বাস্তবতার মধ্যে ফাঁকটা যে কতটা বড়, সেটিই তিনি তুলে ধরেন।
তবে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষতির বিষয়টি তাঁদের অজানা নয়। করোনাকাল কিংবা সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর যে সেশনজট তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে সামাল দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির দায় পুরোপুরি শিক্ষক সমাজের ওপর চাপানো ঠিক হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর মতে, যেখানে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা হয় না, সেখানে অসন্তোষ জমাট বাঁধে—এবং সেটিই এখন দৃশ্যমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিক্ষকদের প্রতি অন্তত পরীক্ষাগুলো নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, বিশ্ববিদ্যালয় আগেই পিছিয়ে রয়েছে, তাই শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় এনে দ্রুত সিদ্ধান্ত জরুরি। পাশাপাশি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রশ্নপত্র, খাতা ও অন্যান্য প্রস্তুতি যেন যথাসময়ে বিভাগগুলোতে পৌঁছানো হয়।





































