তেল নির্ভরতা কমাতে সরকারের নতুন রূপরেখা
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
- / 33
পরিবেশবান্ধব পরিবহন ও দেশীয় শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার ‘ইলেকট্রিক ভেহিকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৫’ চূড়ান্ত করার পথে। কর-সুবিধা, বিনিয়োগ প্রণোদনা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
দেশে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জ্বালানিনির্ভরতা হ্রাসের লক্ষ্য সামনে রেখে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) খাতে একটি বিস্তৃত নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তুত হওয়া ‘ইলেকট্রিক ভেহিকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৫’-এর খসড়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় ইভি শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক খাতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট। উৎপাদন পর্যায়ে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১ শতাংশ হারে সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি আরোপের কথা বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত আয়কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। লেড ও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনেও কর অব্যাহতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের নীতি, আইন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অনুবিভাগের যুগ্মসচিব সুলতানা ইয়াসমীন জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তার ভাষ্যে, দেশে ইভির ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে—সেই বাস্তবতায় স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
নীতিমালায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ বারবার উঠে এসেছে। পরিবহন খাতকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের বড় উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে এখানে বিকল্প হিসেবে ইভির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে—সে প্রশ্ন খোলা থাকছে।
এদিকে বিনিয়োগ আকর্ষণে একাধিক প্রণোদনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ইভি নিবন্ধন ফি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো, অগ্রিম আয়কর অব্যাহতি, কম শুল্কহার এবং যন্ত্রাংশ আমদানিতে সুবিধা দেওয়ার মতো উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার এবং দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া এই খাত এগোনো কঠিন—এ উপলব্ধিও নীতিমালায় প্রতিফলিত। সারাদেশে চার্জিং স্টেশন স্থাপন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং নতুন ভবনে চার্জিং সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতকে এতে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণেও কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইজি বাইকসহ তিন চাকার ইলেকট্রিক যানবাহনকে নিবন্ধনের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো যানবাহন বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না—এমন বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।
সরকারি ব্যবহারে ইভির অংশ বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশ ইলেকট্রিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালা বাস্তবায়নে একটি উচ্চপর্যায়ের কাউন্সিল গঠনের কথাও বলা হয়েছে, যা তদারকি ও সমন্বয়ের কাজ করবে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি শিল্পায়নে নতুন গতি আসতে পারে। তবে নীতিমালা থেকে বাস্তব প্রয়োগে যেতে যে ধরনের সমন্বয় ও ধারাবাহিকতা দরকার—সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হয়।



































