ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামাক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের তাগিদ

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 38

তামাক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের তাগিদ

তামাকের ব্যবহার কমিয়ে অসংক্রামক রোগে অকালমৃত্যু রোধ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কার্যকর আইন ও দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘এসডিজি অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ তাগিদ দেন। উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান উবিনিগ এ বৈঠকের আয়োজন করে।

বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি। বিধিমালা না হলে তামাকের ব্যবহার কমাতে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা কঠিন হবে। তামাকের ব্যবহার কমানো না গেলে অসংক্রামক রোগে অকালমৃত্যু কমানো এবং এসডিজি অর্জনও কঠিন হবে।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন তামাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় উদ্বেগ রয়েছে। এসব পণ্য নতুন ধরনের আসক্তিকর পণ্য হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য একরামুল বারী টিপু বলেন, এসডিজি-৩ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগে অকালমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এসডিজি-৩(ক)-তে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) বাস্তবায়ন জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই এসডিজি অর্জনে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, তামাক ব্যবহারের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারের কারণে মারা যান। কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে দেশের উৎপাদনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

উবিনিগের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি দ্রুত বিধিমালা তৈরি ও কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। তামাকজনিত অকালমৃত্যু ও অসুস্থতা কমানোর পাশাপাশি এসডিজি-৩ অর্জন এবং সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নারী সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, নারী সংসদ সদস্য মোছা. সাবিরা সুলতানা এবং সালিনা সুলতানা নিশিতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক, গণস্বাস্থ্য কমিউনিটি বেসড ক্যানসার হাসপাতালের অধ্যাপক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনসহ গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৈঠকে অংশ নেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তামাক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের তাগিদ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

তামাকের ব্যবহার কমিয়ে অসংক্রামক রোগে অকালমৃত্যু রোধ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কার্যকর আইন ও দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘এসডিজি অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ তাগিদ দেন। উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান উবিনিগ এ বৈঠকের আয়োজন করে।

বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি। বিধিমালা না হলে তামাকের ব্যবহার কমাতে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা কঠিন হবে। তামাকের ব্যবহার কমানো না গেলে অসংক্রামক রোগে অকালমৃত্যু কমানো এবং এসডিজি অর্জনও কঠিন হবে।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন তামাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় উদ্বেগ রয়েছে। এসব পণ্য নতুন ধরনের আসক্তিকর পণ্য হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য একরামুল বারী টিপু বলেন, এসডিজি-৩ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগে অকালমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এসডিজি-৩(ক)-তে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) বাস্তবায়ন জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই এসডিজি অর্জনে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, তামাক ব্যবহারের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারের কারণে মারা যান। কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে দেশের উৎপাদনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

উবিনিগের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি দ্রুত বিধিমালা তৈরি ও কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। তামাকজনিত অকালমৃত্যু ও অসুস্থতা কমানোর পাশাপাশি এসডিজি-৩ অর্জন এবং সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নারী সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, নারী সংসদ সদস্য মোছা. সাবিরা সুলতানা এবং সালিনা সুলতানা নিশিতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক, গণস্বাস্থ্য কমিউনিটি বেসড ক্যানসার হাসপাতালের অধ্যাপক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনসহ গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৈঠকে অংশ নেন।