জবির মেসে র্যাব পরিচয়ে ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
রাজধানীর কলতাবাজারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রীদের একটি মেসে র্যাবের পরিচয়ে প্রবেশ করে এক শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করলে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চলে যান।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কলতাবাজারের জনসন রোডের ৫৩/৪ বি এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি মেসে গিয়ে নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দেন। তারা একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে এসেছেন বলে জানান। একপর্যায়ে নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বর্ষা খাতুনকে একটি র্যাবের গাড়িতে তোলা হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে যায়। তারা শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে না জানিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে তাকে আর নেওয়া হয়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে বিষয়টি সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
তিনি জানান, শুরুতে র্যাব পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও পরে র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে র্যাবের গাড়িতে দেখতে পান। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ থাকলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক বলেন, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চুরির মামলার কথা বলা হলেও ঘটনাস্থলে মামলাটির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধের জেরে মামলাটি হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় ও মোবাইল নম্বর জানতে চাওয়া হলেও তারা তা দিতে রাজি হননি। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
সূত্রাপুর থানার ওসি আনোয়ার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আসা ব্যক্তিরা র্যাবের সদস্য ছিলেন এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিলেন বলে জানান তিনি। পরে পারিবারিক বিরোধের কারণে করা একটি মামলা বলে জানতে পেরে শিক্ষার্থীকে না নিয়েই তারা চলে যান।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বর্ষা খাতুনের বোনের সাবেক স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর বর্ষা খাতুনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মেসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।





























