কোরবানির পশুর বাজারে লাভের আশা খামারিদের
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
- / 71
ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশের কোরবানির পশুর বাজারে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও মানসম্মত পশুর চাহিদা বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের আগ্রহে খামারি ও ব্যবসায়ীরা এবার তুলনামূলক ভালো বিক্রির আশা করছেন।
দেশজুড়ে কোরবানির পশু কেনাবেচার প্রস্তুতি এখন পুরোদমে চলছে। ঢাকার উপকণ্ঠ থেকে শুরু করে নোয়াখালীর মতো পশুপালনপ্রধান অঞ্চলে খামারিরা মাসখানেক ধরেই হাটের জন্য পশু প্রস্তুত করছেন। খরচের চাপ স্পষ্ট—খাদ্য, ওষুধ, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় আগের চেয়ে বেড়েছে। তবুও খামারিদের মধ্যে আশাবাদ কমেনি, বরং অনেকের মতে এবার বাজার কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
ঢাকার হায়দার ডেইরি অ্যান্ড অ্যাগ্রোর মালিক শাদমান হায়দার আমানত জানিয়েছেন, তিনি এ মৌসুমে প্রায় ৩০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। তার মতে, খরচ বাড়লেও ক্রেতারা এখন মানসম্মত ও সুস্থ পশুর দিকেই বেশি ঝুঁকছেন, যা বাজারে একটি ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, কম দামের পশুর ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ অনেক সময় সেগুলো যথাযথভাবে লালন-পালন করা হয় না।
নোয়াখালীর আমানিয়া অ্যাগ্রোর সাইদুর রহমান সিফাতও উৎপাদন ব্যয়ের চাপের কথা উল্লেখ করেছেন। তার খামারে ৫০ থেকে ৬০টি গরু ও ছাগল প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলছেন, সব চাপের মধ্যেও ভালো মানের পশুর চাহিদা এখনো টিকে আছে, যা খামারিদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা লক্ষ্য করছেন, শহরাঞ্চলে তুলনামূলক ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বাজেট বিবেচনায় ২০০ থেকে ৫০০ কেজি ওজনের পশুই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৫০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকার মধ্যে ক্রেতারা পছন্দমতো পশু খুঁজছেন।
অন্যদিকে রাজধানীর আব্দুল মালেক অ্যাগ্রোর সম্রাট মির্জা জানিয়েছেন, তার খামারে এবার ৮০ থেকে ৮৫টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। ক্রেতাদের আগাম আগ্রহ ও খোঁজখবর দেখে তিনি বাজারকে তুলনামূলক ইতিবাচক বলেই মনে করছেন।
খামার সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় আকারের পশুর তুলনায় এখন মানুষ সাশ্রয়ী ও ভালোভাবে লালন করা পশুর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এতে বাজারে মাঝারি আকারের গরুর দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এবার কোরবানির পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকবে। মোট চাহিদা যেখানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ, সেখানে সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি। ফলে প্রায় ২২ লাখেরও বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
































