ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানকে বৈশ্বিক অবরোধে পড়তে হবে: পেন্টাগন প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 24

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুধু আঞ্চলিক নয়, ধীরে ধীরে বৈশ্বিক রূপ নিচ্ছে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ, যদিও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও জানান তিনি।

ওয়াশিংটনে এক ব্রিফিংয়ে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ এখন বিস্তৃত হচ্ছে এবং তা আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি উল্লেখ করে বলেন, তেহরানের জন্য এখনো একটি ‘ভালো চুক্তি’র সুযোগ রয়েছে, যদি তারা আলোচনায় বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়।

হেগসেথ দাবি করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এই বক্তব্যে তিনি যুক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী এই কৌশলগত জলপথে কার্যত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে।

একই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত শীর্ষ মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ইরানের সব বন্দরকে ঘিরে কঠোর অবরোধ কার্যকর রয়েছে। তিনি উল্লেখ করে বলেন, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৩৪টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি যুক্ত করেন, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলেও ইরানগামী জাহাজে নজরদারি ও বাধা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কেইন আরও বিশ্লেষণ করে বলেন, যে কোনো দেশের জাহাজ—ইরানের দিকে যাক বা সেখান থেকে ফিরুক—সব ক্ষেত্রেই এই অবরোধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। সন্দেহজনক গতিবিধি থাকা জাহাজগুলোকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতি পুরোপুরি থেমে নেই। পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যদিও সাম্প্রতিক নির্ধারিত বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত হয়নি।

হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো তাড়াহুড়োয় নেই। তিনি উল্লেখ করে বলেন, আলোচনার টেবিলে ফিরতে হলে ইরানকে যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে হবে। তার ভাষায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তেহরানের সামনে এখনো একটি ‘খোলা সুযোগ’ রয়েছে।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই নৌ অবরোধ নিয়ে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি। হেগসেথ বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যদি মাইন পেতে চায়, তা হলে সেটি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে ঝুঁকি বেড়েছে। তার মতে, ছোট ও দ্রুতগতির অস্ত্রসজ্জিত নৌযান ব্যবহার করে ইরানের আচরণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইরানকে বৈশ্বিক অবরোধে পড়তে হবে: পেন্টাগন প্রধান

সর্বশেষ আপডেট ১০:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুধু আঞ্চলিক নয়, ধীরে ধীরে বৈশ্বিক রূপ নিচ্ছে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ, যদিও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও জানান তিনি।

ওয়াশিংটনে এক ব্রিফিংয়ে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ এখন বিস্তৃত হচ্ছে এবং তা আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি উল্লেখ করে বলেন, তেহরানের জন্য এখনো একটি ‘ভালো চুক্তি’র সুযোগ রয়েছে, যদি তারা আলোচনায় বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়।

হেগসেথ দাবি করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এই বক্তব্যে তিনি যুক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী এই কৌশলগত জলপথে কার্যত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে।

একই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত শীর্ষ মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ইরানের সব বন্দরকে ঘিরে কঠোর অবরোধ কার্যকর রয়েছে। তিনি উল্লেখ করে বলেন, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৩৪টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি যুক্ত করেন, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলেও ইরানগামী জাহাজে নজরদারি ও বাধা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কেইন আরও বিশ্লেষণ করে বলেন, যে কোনো দেশের জাহাজ—ইরানের দিকে যাক বা সেখান থেকে ফিরুক—সব ক্ষেত্রেই এই অবরোধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। সন্দেহজনক গতিবিধি থাকা জাহাজগুলোকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতি পুরোপুরি থেমে নেই। পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যদিও সাম্প্রতিক নির্ধারিত বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত হয়নি।

হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো তাড়াহুড়োয় নেই। তিনি উল্লেখ করে বলেন, আলোচনার টেবিলে ফিরতে হলে ইরানকে যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে হবে। তার ভাষায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তেহরানের সামনে এখনো একটি ‘খোলা সুযোগ’ রয়েছে।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই নৌ অবরোধ নিয়ে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি। হেগসেথ বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যদি মাইন পেতে চায়, তা হলে সেটি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে ঝুঁকি বেড়েছে। তার মতে, ছোট ও দ্রুতগতির অস্ত্রসজ্জিত নৌযান ব্যবহার করে ইরানের আচরণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।