চাড়ালকাটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে জনপদ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 19
নীলফামারীর চাড়ালকাটা নদীর তীর ঘিরে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। নদী ভাঙন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের আবাদি জমি ও বসতভিটাও ধীরে ধীরে ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে তারা দাবি করছেন।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও সদর উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত চাড়ালকাটা নদীতে প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও কার্যকর কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকায় নদীর তীর কেটে ভেকু মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ট্রলি গাড়িতে বালু পরিবহন চললেও এলাকাবাসীর দাবি, এসব কার্যক্রমে বাধা দিলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। কোথাও কোথাও সাংবাদিকদের প্রবেশেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে বাহাগিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুরাকুটি ময়দানপাড়া ও কালুরঘাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। বালুবাহী ট্রলির লাগাতার চলাচলে স্থানীয় সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা, যার প্রভাব পড়ছে স্বাভাবিক যান চলাচলেও।
স্থানীয়দের একাংশ জানায়, একটি প্রভাবশালী মহল ইজারার আড়ালে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করছে। তারা যুক্তি দেন, একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীর তীর কেটে বালু তোলায় আশপাশের জমি ও বসতভিটা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তার ভাষায়, অভিযোগ জানালেও বাস্তবে কোনো সুরাহা মিলছে না, বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
অন্যদিকে রিপন মিয়া জানান, বালুবাহী ট্রলির অবিরাম চলাচলে সড়ক প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি রাতভর শব্দে এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে আলতাফ হোসেন দাবি করেন, তারা বৈধ ইজারার আওতায় বালু তুলছেন এবং নিজস্ব জমি থেকে উত্তোলন করছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য আলাদা অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
































