ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্ট মার্টিন বিষয়ে পুরোনো সিদ্ধান্ত বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 7

পর্যটন সীমিত রাখার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না—সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে বছরে মাত্র তিন মাস উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তই ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটন নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারও একই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সরেজমিন গবেষণায় দেখা গেছে—বছরের দীর্ঘ সময় পর্যটন বন্ধ রাখার ফলে দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তিনি যুক্ত করেন, প্রায় সাত বছর ধরে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শেষে ২০২৪ সালে এই নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়।

বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, বছরে নয় মাস সেন্ট মার্টিনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাকি তিন মাস—নভেম্বর থেকে জানুয়ারি—সীমিত আকারে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারেন বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী বিশ্লেষণ করে বলেন, এই সময়সীমা বাড়ানো হলে দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিন মাসের বেশি পর্যটন চালু থাকলে দ্বীপটির অস্তিত্বই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিশেষ ভূপ্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে নিয়ন্ত্রিত পর্যটন ছাড়া অন্য কোনো বাস্তবসম্মত পথ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটন বন্ধ থাকা সময়টুকু দ্বীপের জন্য এক ধরনের ‘পুনরুদ্ধার পর্ব’ হিসেবে কাজ করে। এই সময়ে প্রকৃতি নিজস্ব ছন্দে ফিরে আসার সুযোগ পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপ সংরক্ষণে সহায়ক হতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সেন্ট মার্টিন বিষয়ে পুরোনো সিদ্ধান্ত বহাল

সর্বশেষ আপডেট ১০:০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

পর্যটন সীমিত রাখার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না—সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে বছরে মাত্র তিন মাস উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তই ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটন নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারও একই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সরেজমিন গবেষণায় দেখা গেছে—বছরের দীর্ঘ সময় পর্যটন বন্ধ রাখার ফলে দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তিনি যুক্ত করেন, প্রায় সাত বছর ধরে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শেষে ২০২৪ সালে এই নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়।

বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, বছরে নয় মাস সেন্ট মার্টিনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাকি তিন মাস—নভেম্বর থেকে জানুয়ারি—সীমিত আকারে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারেন বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী বিশ্লেষণ করে বলেন, এই সময়সীমা বাড়ানো হলে দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিন মাসের বেশি পর্যটন চালু থাকলে দ্বীপটির অস্তিত্বই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিশেষ ভূপ্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে নিয়ন্ত্রিত পর্যটন ছাড়া অন্য কোনো বাস্তবসম্মত পথ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটন বন্ধ থাকা সময়টুকু দ্বীপের জন্য এক ধরনের ‘পুনরুদ্ধার পর্ব’ হিসেবে কাজ করে। এই সময়ে প্রকৃতি নিজস্ব ছন্দে ফিরে আসার সুযোগ পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপ সংরক্ষণে সহায়ক হতে পারে।