মাদ্রাসায় যৌন হয়রানি রোধে কমিটি গঠনের দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 30
দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় এমজেএফ।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি গাজীপুর, টঙ্গী, সাভার ও কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সামাজিক লজ্জা, ভয়ভীতি ও চাপের কারণে অনেক শিশু নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতে পারে না। ফলে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা থাকতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
এমজেএফ বলেছে, নির্যাতনের অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া কিংবা শিশুদের ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সার্বিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, প্রতিটি শিশুর নিরাপদ ও স্নেহপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। অভিভাবকেরা সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ ও ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশায়। তাই যাঁদের দায়িত্ব শিশুদের যত্ন নেওয়া ও শিক্ষা দেওয়া, তাঁদের কাছে কোনো শিশুর ভীত হওয়ার কথা নয়।
তিনি বলেন, কোনো শিশু নির্যাতনের কথা জানালে প্রথম দায়িত্ব হলো তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শিশুদের নির্যাতন বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের বিষয়ে নির্ভয়ে কথা বলতে উৎসাহিত করতে হবে। অভিযোগ জানানোর কারণে কোনো শিশুকে দোষারোপ, ভয় দেখানো কিংবা চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে না।
শাহীন আনাম আরও বলেন, প্রতিটি শিশুর কথা শোনা, অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশুকে যেন শিক্ষা ও নিরাপত্তার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না হয়, সে পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
এমজেএফ জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ২০০৯ সালে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশনা এবং পরবর্তী নির্দেশনার আলোকে মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছে তারা।
বিবৃতিতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি শিশু সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ও গোপনীয় ব্যবস্থা চালু এবং প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত তদন্তের দাবি জানায় সংস্থাটি।
এ ছাড়া নির্যাতনের শিকার শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পরিচয় ও গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে এমজেএফ।
































