ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলা ঘিরে উন্নয়নের স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, মোংলা (বাগেরহাট)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 30

প্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলা ঘিরে উন্নয়নের স্বপ্ন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা সফরকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, ড্রেজিং, প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা তাঁদের।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে মোংলা হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি সুন্দরবন, মোংলা নৌঘাঁটি, বন্দর জেটি ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি নৌবাহিনী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সড়কের পাশে অপেক্ষায় থাকা নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে কাছ থেকে দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দা কালাম শেখ ও রবিউল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি হাত মেলানোর সুযোগ পেয়ে তাঁরা আনন্দিত।

বন্দর ঘিরে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা

ব্যবসায়ীদের মতে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, নৌপথের নাব্যতা রক্ষা এবং শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ বলেন, চীনের সঙ্গে মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন নিয়ে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কার্যক্রম বাড়বে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি ফিরবে বলে আশা তাঁর।

ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন মনে করেন, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে শিল্প ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণও সহজ হবে।

মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মিত হলে বন্দরের সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বৈষম্য নিরসন ও আধুনিকায়নের দাবি

মোংলা বন্দর দিয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সভাপতি আব্দুল হক আমদানির ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে। প্রধানমন্ত্রীর সফর এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ সাহেদ আলী রবি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ জন্য বন্দর চ্যানেলে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি মোংলা কাস্টমস হাউস ও শুল্ক বিভাগের আধুনিকায়ন প্রয়োজন।

বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান তুহিনের প্রত্যাশা, অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ, ড্রেজিংসহ থমকে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ হবে। প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়বে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় কাজ হারানো মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পিজিআর, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পরিদর্শন করা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের গতি বাড়বে। সেই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়ে বদলে যেতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলা ঘিরে উন্নয়নের স্বপ্ন

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা সফরকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, ড্রেজিং, প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা তাঁদের।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে মোংলা হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি সুন্দরবন, মোংলা নৌঘাঁটি, বন্দর জেটি ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি নৌবাহিনী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সড়কের পাশে অপেক্ষায় থাকা নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে কাছ থেকে দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দা কালাম শেখ ও রবিউল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি হাত মেলানোর সুযোগ পেয়ে তাঁরা আনন্দিত।

বন্দর ঘিরে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা

ব্যবসায়ীদের মতে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, নৌপথের নাব্যতা রক্ষা এবং শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ বলেন, চীনের সঙ্গে মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন নিয়ে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কার্যক্রম বাড়বে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি ফিরবে বলে আশা তাঁর।

ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন মনে করেন, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে শিল্প ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণও সহজ হবে।

মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মিত হলে বন্দরের সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বৈষম্য নিরসন ও আধুনিকায়নের দাবি

মোংলা বন্দর দিয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সভাপতি আব্দুল হক আমদানির ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে। প্রধানমন্ত্রীর সফর এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ সাহেদ আলী রবি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ জন্য বন্দর চ্যানেলে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি মোংলা কাস্টমস হাউস ও শুল্ক বিভাগের আধুনিকায়ন প্রয়োজন।

বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান তুহিনের প্রত্যাশা, অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ, ড্রেজিংসহ থমকে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ হবে। প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়বে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় কাজ হারানো মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পিজিআর, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পরিদর্শন করা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের গতি বাড়বে। সেই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়ে বদলে যেতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র।