ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে সাগরে ডুবে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 15

কক্সবাজারে সাগরে ডুবে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

কক্সবাজারের রামু উপজেলার হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপে সাগরে গোসল করতে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহত ও নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকজন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্যাঁচার দ্বীপে মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া তিনজনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে সাত বন্ধু মিলে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দুই দিন ঘোরাঘুরি শেষে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা কক্সবাজারে পৌঁছান। দুপুর ১টার দিকে হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপে জাদুঘরসংলগ্ন ‘সৌরণেষ্ট’ নামের একটি রিসোর্টে ওঠেন। দুপুরের খাবার শেষে বিকেল চারটার দিকে তাঁরা সাগরে গোসল করতে নামেন।

এসআই সোলাইমান হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, গোসলের সময় কয়েকজন যুবক পানিতে ডুবে যেতে দেখে তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে যান বন্ধুরা। এ সময় সাতজনই স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যেতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পর্যটকদের কেউই সাঁতার জানতেন না বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাইবুল হক জিসান (২৩) ও আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪)। তৃতীয় নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজ দুজনের মধ্যে এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩) রয়েছেন। অন্য নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তাঁদের সঙ্গে বেড়াতে আসা অন্য চারজন হলেন সামিন ইসরাত নাফি (২৩), রুহুল আমিন শাফি (২৩), ঐশ্বর্য অক্ষর (২৩) ও সুফি আমিন নাবিল (২২)।

স্বজনেরা জানান, সাইবুল হক জিসান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মুকাররম হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিবিএর শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিখোঁজ এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় ঢাকার আজিমপুর এলাকার নাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

সাইবুল হক জিসানের বোন মাইশা হক জানান, তাঁরা দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। তাঁর বাবা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। আল মাহিবুরের ভগ্নিপতি নাজমুস সাকিব বলেন, গত সোমবার বন্ধুরা বেড়াতে বের হয়েছিলেন। বুধবার বিকেলে সাগরে গোসল করতে নেমে তাঁরা দুর্ঘটনার শিকার হন।

নিখোঁজ নিবিড়ের খালা শামীমা হক সোমা জানান, গত ১৮ অক্টোবর নিবিড় বাড়ি থেকে বের হন। প্রথমে তাঁরা বান্দরবান যান, পরে বুধবার কক্সবাজারে পৌঁছান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

জীবিত উদ্ধার হওয়া রাকিব বলেন, তাঁরা পাঁচ বন্ধু মিলে চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে এসেছিলেন। সকালে ইনানী ঘুরে দুপুরের দিকে সাগরে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তাঁরা একটি গর্তে পড়ে যান।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। বিপজ্জনক এলাকায় পর্যটকদের সাগরে নামতে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে অনেকে সেই নির্দেশনা না মানায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কক্সবাজারে সাগরে ডুবে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

সর্বশেষ আপডেট ০৫:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলার হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপে সাগরে গোসল করতে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহত ও নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকজন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্যাঁচার দ্বীপে মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া তিনজনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে সাত বন্ধু মিলে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দুই দিন ঘোরাঘুরি শেষে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা কক্সবাজারে পৌঁছান। দুপুর ১টার দিকে হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপে জাদুঘরসংলগ্ন ‘সৌরণেষ্ট’ নামের একটি রিসোর্টে ওঠেন। দুপুরের খাবার শেষে বিকেল চারটার দিকে তাঁরা সাগরে গোসল করতে নামেন।

এসআই সোলাইমান হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, গোসলের সময় কয়েকজন যুবক পানিতে ডুবে যেতে দেখে তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে যান বন্ধুরা। এ সময় সাতজনই স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যেতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পর্যটকদের কেউই সাঁতার জানতেন না বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাইবুল হক জিসান (২৩) ও আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪)। তৃতীয় নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজ দুজনের মধ্যে এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩) রয়েছেন। অন্য নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তাঁদের সঙ্গে বেড়াতে আসা অন্য চারজন হলেন সামিন ইসরাত নাফি (২৩), রুহুল আমিন শাফি (২৩), ঐশ্বর্য অক্ষর (২৩) ও সুফি আমিন নাবিল (২২)।

স্বজনেরা জানান, সাইবুল হক জিসান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মুকাররম হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিবিএর শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিখোঁজ এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় ঢাকার আজিমপুর এলাকার নাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

সাইবুল হক জিসানের বোন মাইশা হক জানান, তাঁরা দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। তাঁর বাবা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। আল মাহিবুরের ভগ্নিপতি নাজমুস সাকিব বলেন, গত সোমবার বন্ধুরা বেড়াতে বের হয়েছিলেন। বুধবার বিকেলে সাগরে গোসল করতে নেমে তাঁরা দুর্ঘটনার শিকার হন।

নিখোঁজ নিবিড়ের খালা শামীমা হক সোমা জানান, গত ১৮ অক্টোবর নিবিড় বাড়ি থেকে বের হন। প্রথমে তাঁরা বান্দরবান যান, পরে বুধবার কক্সবাজারে পৌঁছান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

জীবিত উদ্ধার হওয়া রাকিব বলেন, তাঁরা পাঁচ বন্ধু মিলে চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে এসেছিলেন। সকালে ইনানী ঘুরে দুপুরের দিকে সাগরে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তাঁরা একটি গর্তে পড়ে যান।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। বিপজ্জনক এলাকায় পর্যটকদের সাগরে নামতে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে অনেকে সেই নির্দেশনা না মানায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।