মুক্তি পেয়েই ভিডিওবার্তায় গুরুতর অভিযোগ ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- / 18
ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি শনিবার গভীর রাতে মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রোববার (১১ অক্টোবর) এক ভিডিওবার্তায় বলেছেন যে তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে রাঠি এই খবরও খণ্ডন করেছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে তিনি গুরুগ্রাম পুলিশের কাছে একটি মুচলেকা দিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল।”
কর্মকর্তাদের মতে, শনিবার রাত ৩টার সময় রাঠিকে মুক্তি দেয়া হয় এবং তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটিতে তার বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল।
ভিডিওবার্তায় রাঠি তার ভারতীয় পাসপোর্ট বলে দাবি করা একটি পাসপোর্ট দেখান এবং তিনি একজন বিদেশি নাগরিক, যিনি বিক্ষোভে অংশ নিতে চাইছিলেন; এমন দাবি করে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমি একজন ভারতীয় নাগরিক এবং একজন সাধারণ নাগরিকের যে অধিকার রয়েছে, আমারও সেই একই অধিকার রয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে, যখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন তার মা দরজা খুলেছিলেন, কারণ বাইরে বেশ কয়েকজন লোক ঘোরাফেরা করছিল। তার দাবি, তারা পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন না, বরং সাধারণ পোশাকে থাকা লোকজন ছিলেন। তিনি বলেন, প্রায় ২০ জন হঠাৎ করে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েন।
তিনি বলেন, “আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই লোকেরা আক্ষরিক অর্থেই আমাকে অপহরণ করে। আমি এখানে অপহরণ শব্দটি ব্যবহার করছি, কারণ এটি কোনো গ্রেপ্তার নয়।”
তিনি বলেন, “আমি যদি বিক্ষোভে যেতাম, তাহলে আমাকে আটক করা হতো।” তার অভিযোগ, নেমপ্লেট ছাড়া কিছু ‘গুণ্ডাকে’ পাঠানো হয়েছিল তাকে ‘অপহরণ’ করার জন্য।
তিনি বলেন, “তারা আমাকে সোজাসুজি টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। মানে, একটু কল্পনা করে দেখুন, একজন অপরাধীকে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা আমাকে শোবার ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে নিয়ে যায়। এখানে আমি গুরুতরভাবে আহত হয়েছি। আমার সারা শরীরে এ ধরনের ক্ষত রয়েছে।”
রাঠি আরও অভিযোগ করেন যে তাকে তার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আপনারা কি এমন কোনো গণতান্ত্রিক দেশের কথা শুনেছেন, যেখানে একজন সাধারণ নাগরিক কোনো আইন ভাঙেননি, যিনি শুধু সত্যের পক্ষে এবং দেশের কল্যাণের জন্য নিজের কণ্ঠস্বর তুলেছেন, যিনি একটি উন্নত নির্বাচন কমিশনের দাবি জানিয়েছেন, তাকে তার নিজের বাড়ির শোবার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, অপহরণ করা হয়, তার বাবা-মাকে মারধর করা হয় এবং তারপর এভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়?”
তিনি পরিস্থিতিটিকে একটি ‘অনানুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ‘দেশকে একনায়কতন্ত্রে পরিণত করার’ অভিযোগ তোলেন।
































