অবশেষে নিয়োগ পেলেন
লড়াই শেষে শিক্ষক হলেন মিশন আচার্য
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 28
স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে নিয়োগ আটকে যাওয়া আলোচিত মিশন আচার্য অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগপত্রে তাকে আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সুপারিশে মিশন আচার্যকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সোমবারের নিয়োগপত্র অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা বেতনস্কেলের গ্রেড-১৩-এ রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক পদে তাকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, যোগদানের দিন থেকে দুই বছর মিশন আচার্যের চাকরির মেয়াদ শিক্ষানবিশকাল হিসেবে গণ্য হবে। এ সময়ে তার কর্মদক্ষতা, আচরণ ও চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক হলে বিধি অনুযায়ী চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
চাকরিতে যোগদানের পর তাকে সরকার নির্ধারিত দুই মাসের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। পাশাপাশি চার বছরের মধ্যে নির্ধারিত মৌলিক প্রশিক্ষণ (বিটিপিটি) সম্পন্ন করতে হবে। প্রশিক্ষণে ব্যর্থ হলে বা উত্তীর্ণ হতে না পারলে তার চাকরি স্থায়ী করা হবে না বলে নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি মিশনকে অভিনন্দন জানিয়ে আদর্শ শিক্ষক হওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি হাজারো শিক্ষার্থীর প্রিয় শিক্ষক হয়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, স্থায়ী বসতভিটা না থাকার কারণে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো মিশন আচার্যকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। এ সময় মিশনের পাশে থাকা সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি এবং বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় আলোচনায় আসেন মিশন আচার্য। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ে মেধাক্রমে তার অবস্থান ছিল ১৭তম। ওই নিয়োগে মোট ১৮২ জনকে সুপারিশ করা হলেও ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
মিশন আচার্য জানিয়েছিলেন, বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় এবং অন্যজন তিনি নিজে হওয়ায় তার নিয়োগ আটকে যায়। স্থায়ী ঠিকানা না থাকার বিষয়টিও তার নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করে। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনায় এলে অবশেষে তাকে নিয়োগ দেওয়া হলো।































