হত্যা মামলায় মন্ত্রী রবিউলসহ ৯ জনের অব্যাহতি বহাল
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 17
দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনকে আসামি করার বাদীপক্ষের আবেদন শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে গেছে। ফলে তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে অব্যাহতির যে সুপারিশ করা হয়েছিল, সেটিই বহাল থাকল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১৩-এর বিচারক জাহিদুল ইসলাম বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত তামিমের বাবা ও মামলার বাদী সুলতান আহমেদ। বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
মামলার তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের এসআই জাকারিয়া আলম ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার এই সুপারিশ মেনে না নিয়ে ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করেন তামিমের বাবা। অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তবে সেই আবেদনও টেকেনি। গত ৩ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র গ্রহণ করে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলাটি আরও তদন্তের প্রয়োজন নেই।
এরপর নিম্ন আদালতের ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন আবেদন করেন বাদী। গত ১৯ সেপ্টেম্বর এ আবেদনের ওপর শুনানি হয় ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে ৫ অক্টোবর আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে আদালত বাদীর আবেদন খারিজ করে দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় হামলার শিকার হন দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরদিন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১১ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
তবে তদন্ত শেষে মামলায় নাম থাকা ১৬ জনের মধ্যে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানায় পিবিআই। বাদীপক্ষ সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে অধিকতর তদন্ত ও তাদের মামলায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করলেও নিম্ন আদালতের পর এবার রিভিশন আদালতেও সেই আবেদন খারিজ হলো।





























