স্থানীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী কমবে: সিইসি
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৫২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 36
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের আশা থাকলেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কম হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের ইলেক্টোরাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ইটিআই) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘জেন্ডার সমতা কৌশল’ বিষয়ক পর্যালোচনা কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান নারীর অংশগ্রহণ। কিন্তু সামাজিক সংস্কৃতি ও প্রচলিত বিশ্বাসের কারণে নির্বাচনে নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ এখনও কম। জনগোষ্ঠীর অর্ধেককে বাইরে রেখে গণতন্ত্রকে সুসংহত করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে। পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতি ও তথ্যের ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন সহজ নয়, তবে ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
কর্মশালায় জাতিসংঘের ইউএন উইমেনের কান্ট্রি প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং বলেন, নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তাদের আর্থিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত বাধা দূর করা প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকারে নারীদের জন্য সংরক্ষিত পদ রয়েছে। এসব পদে কাজের অভিজ্ঞতা নারীদের জাতীয় রাজনীতিতেও ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করে। তবে গত জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি দলীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য ছড়ানো বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নারী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি নারী ভোটার ও প্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমেদ বলেন, নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন থাকলেও বাস্তবে নানা ঘাটতি রয়েছে। নারীদের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হলে সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু সভা-সেমিনারে বসে জেন্ডার সমতার কৌশল নির্ধারণ করলে হবে না; প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামের বাস্তব চিত্রও বিবেচনায় নিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নারীর সুরক্ষায় দেশে আইন রয়েছে। তবে শুধু আইন দিয়ে নারীর অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক পরিবর্তনও।
জাতিসংঘ বাংলাদেশ ও সংস্থাটির ‘ইউএন ইলেক্টোরাল প্রজেক্ট ব্যালট অ্যান্ড ড্রিপ’-এর সহায়তায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নির্বাচন কমিশনের খসড়া ‘জেন্ডার সমতা কৌশল’ নিয়ে আলোচনা এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়।





























