কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 95
কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামের নতুন চালান পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
এর আগে শুক্রবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে রাশিয়া থেকে তেজস্ক্রিয় জ্বালানিবাহী বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে বহরটি। বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার দাশুড়িয়া হয়ে সেটি রূপপুরে পৌঁছায়।
প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের চালানটি গ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে নির্ধারিত বিরতি দিয়ে আকাশপথে চালানটি বাংলাদেশে আনা হয়। নিরাপত্তার কারণে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর চলাচলের সময় ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, গাড়িবহরটি নির্বিঘ্নে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়। শনিবার বেলা পৌনে ১২টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। বহরটি প্রকল্পে প্রবেশের পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরবরাহ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নয়টি কার্গো ফ্লাইটে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট ২১১টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের পরবর্তী রিফুয়েলিংয়ের জন্য ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি অ্যাসেম্বলি আনা হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হয়েছে। তবে কমিশনিংয়ের বিভিন্ন ধাপে জটিলতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু পিছিয়েছে। বিশেষ করে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ-সংক্রান্ত কারিগরি সমস্যায় কার্যক্রমে বিলম্ব হয়।
এনপিসিবিএল জানিয়েছে, সম্প্রতি ১৬ মেগাপ্যাসকেল উচ্চচাপে সেফটি ভালভের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও কয়েকটি বাধ্যতামূলক ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ধরা হলেও সংশোধিত প্রাক্কলনে তা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হয়েছে































