সিলেটে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বয়কট বিএনপির
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 146
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো একদিনের সফরে মঙ্গলবার সিলেটে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সফর উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। তবে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি সিলেট বিএনপির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা, কয়েকজন সংসদ সদস্যসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করে সংবর্ধনার আয়োজন এবং অনেক নেতাকর্মীকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগে অনুষ্ঠানটি বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।
সংবর্ধনায় অনুপস্থিত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ ও কুটির শিল্পবিষয়ক সহ-সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সফরসূচি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশে যোগ দেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে মহানগর ও জেলা বিএনপি, সুনামগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। শাহজালাল ও শাহপরান মাজার এবং বিমানবন্দরেও বিএনপি নেতারা ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সফরসংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনে দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সিসিক প্রশাসক যেভাবে নাগরিক কমিটি গঠনের কথা বলেছিলেন, তা না করে খামখেয়ালিভাবে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্নভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের অপদস্থ করা হয়েছে। আগের সময়ে প্রধানমন্ত্রী সিলেট সফরে এলে বিএনপি নেতাদের গাড়ি শাহজালাল মাজার ও শাহী ঈদগাহ এলাকায় প্রবেশের অনুমতি পেলেও এবার তা দেওয়া হয়নি। এসব কারণেই নাগরিক সংবর্ধনা বয়কট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সিলেট সফর তাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। রাষ্ট্রপতির প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। তিনি শাহজালাল ও শাহপরান মাজার জিয়ারত করায় তারা তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং সফর শেষে বিদায়ও জানাবেন।
তবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গত দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতন, নিপীড়ন, কারাবরণ ও অঙ্গহানির শিকার অনেক নেতাকর্মীকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়টি তাকে অনুষ্ঠানে যেতে বাধা দিয়েছে বলে জানান কয়েস লোদী। তিনি বলেন, দুঃসময়ে এসব নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়ানো একজন রাজপথের কর্মী হিসেবে তিনি নিজের মানবিক দায়িত্ব মনে করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ তালিকা বা আয়োজনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তার সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই। তবে রাষ্ট্রপতি সবার রাষ্ট্রপতি এবং তার প্রতি বিএনপির শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সবসময় থাকবে। একই সঙ্গে দলের প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকবেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, বিএনপি নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শাহজালাল ও শাহপরান মাজার জিয়ারতে ছিলেন। তবে সিসিক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেননি। রাষ্ট্রপতিকে সিলেট বিমানবন্দর থেকে বিদায় জানানো হবে।






























