ব্রিকস সম্মেলনে নেই বাংলাদেশ, লাভ কার?
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 137
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এ প্রক্রিয়ায় ঢাকা সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।
ব্রিকসের সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশের প্রায় তিন বছর পর বাংলাদেশের এমন অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালে ব্রিকসের সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ। সেই প্রেক্ষাপটে এবার সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না পাওয়াকে কূটনৈতিকভাবে কীভাবে দেখা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজ রহমান মনে করেন, বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্ত সদস্য দেশগুলোর কাছে নতুন কিছু প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সদস্য হতে চেয়েছিল, এখন আর চায় না; বিষয়টি এমন নয়। তবে বাইরে থেকে অনেকের কাছে বার্তাটি সেভাবেই প্রতীয়মান হতে পারে।
তিনি বলেন, বিমসটেকের প্রতিনিধিত্ব না করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ এককভাবে নিতে পারে কি না, এমন প্রশ্নও উঠতে পারে। সাধারণ পরিস্থিতিতে এসব প্রশ্ন সামনে আসে না। কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন বা তিক্ততার উপাদান যুক্ত হলে এ ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়।
বাংলাদেশ ব্রিকসের বাইরে থাকলে এতে কার লাভ; এমন প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ রহমান বলেন, সংগঠনটির দেশগুলোর মধ্যে চীনের সক্ষমতা বিভিন্ন দিক থেকে বেশি। ফলে সদস্যসংখ্যা যত বাড়বে, এর সুবিধা শেষ পর্যন্ত চীনই বেশি পেতে পারে।
তার মতে, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য হলে চীনের মতো একই মাত্রায় সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে ভারতের লাভও এতে কমবে না। তবে বাংলাদেশকে এভাবে আমন্ত্রণ জানানোর পেছনে ভারতের কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয় বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্তে কোনো বন্ধুরাষ্ট্র বিরাগভাজন হতে পারে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এর ফলে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই অন্য কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিষয়টি ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করতে হবে।
সব মিলিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে আঞ্চলিক কূটনীতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ততার প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।





























