ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 9

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ

দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী নভেম্বর মাসে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে।

কেন্দ্রটি চালুর আগে বর্তমানে প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি) সংক্রান্ত একটি পরীক্ষা ও ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে। এ ধাপ শেষ হলে ফিউশন রিয়্যাকশন এবং পরবর্তী পাওয়ার স্টার্টআপের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার আগে বি-টু ধাপ সম্পন্ন করতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরপর টারবাইনের মাধ্যমে ৩০ শতাংশ স্টিম উৎপাদনের ধাপে যেতে আরও প্রায় ছয় সপ্তাহ প্রয়োজন হবে। সবকিছু নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মোট প্রায় নয় সপ্তাহ বা দুই মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন গত ২৬ আগস্ট জানান, আদর্শ কর্মসূচি অনুসরণ করা সম্ভব হলে নভেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে কোনো পরীক্ষায় কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে সময়সূচি আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

যেভাবে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বি-ওয়ান ধাপে রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি লোডিং করা হয়। এরপর বি-টু ধাপে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ সম্পন্ন করে ফিউশন রিয়্যাকশন শুরু করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপশক্তি দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হবে। সেই বাষ্পের চাপে টারবাইন ঘুরবে এবং টারবাইনের মাধ্যমে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।

তবে ফিউশন রিয়্যাকশনে যাওয়ার আগে পিওআরভি পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। গত প্রায় দেড় মাস ধরে পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচে

২০১৬ সালে রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ ৪ টাকা ৬৫ পয়সা ধরা হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে রূপপুর কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে আলোচনা চলছে।

উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে পরিচালন ব্যয় ও বিমা খরচ যুক্ত হওয়ার পরও প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচে থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেনও জানিয়েছেন, রূপপুরের বিদ্যুতের দাম দুই অঙ্কে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

স্পেন্ট ফুয়েল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

রূপপুরে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি বা স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা নিয়েও এখনো চূড়ান্ত বাণিজ্যিক চুক্তি হয়নি। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সরকারের পর্যায়ে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবহৃত জ্বালানি পরবর্তী সময়ে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে ব্যবস্থাপনা করার কথা রয়েছে।

তবে এ জন্য রাশিয়াকে কত অর্থ দিতে হবে, সে বিষয়ে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবহৃত জ্বালানি রিঅ্যাক্টরে প্রায় ১০ বছর সংরক্ষণ করা সম্ভব হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক চাপ নেই।

তবে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার পর প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভারী বর্জ্য তৈরি হবে। এসব বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য এখনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী নভেম্বর মাসে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে।

কেন্দ্রটি চালুর আগে বর্তমানে প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি) সংক্রান্ত একটি পরীক্ষা ও ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে। এ ধাপ শেষ হলে ফিউশন রিয়্যাকশন এবং পরবর্তী পাওয়ার স্টার্টআপের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার আগে বি-টু ধাপ সম্পন্ন করতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরপর টারবাইনের মাধ্যমে ৩০ শতাংশ স্টিম উৎপাদনের ধাপে যেতে আরও প্রায় ছয় সপ্তাহ প্রয়োজন হবে। সবকিছু নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মোট প্রায় নয় সপ্তাহ বা দুই মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন গত ২৬ আগস্ট জানান, আদর্শ কর্মসূচি অনুসরণ করা সম্ভব হলে নভেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে কোনো পরীক্ষায় কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে সময়সূচি আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

যেভাবে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বি-ওয়ান ধাপে রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি লোডিং করা হয়। এরপর বি-টু ধাপে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ সম্পন্ন করে ফিউশন রিয়্যাকশন শুরু করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপশক্তি দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হবে। সেই বাষ্পের চাপে টারবাইন ঘুরবে এবং টারবাইনের মাধ্যমে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।

তবে ফিউশন রিয়্যাকশনে যাওয়ার আগে পিওআরভি পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। গত প্রায় দেড় মাস ধরে পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচে

২০১৬ সালে রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ ৪ টাকা ৬৫ পয়সা ধরা হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে রূপপুর কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে আলোচনা চলছে।

উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে পরিচালন ব্যয় ও বিমা খরচ যুক্ত হওয়ার পরও প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচে থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেনও জানিয়েছেন, রূপপুরের বিদ্যুতের দাম দুই অঙ্কে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

স্পেন্ট ফুয়েল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

রূপপুরে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি বা স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা নিয়েও এখনো চূড়ান্ত বাণিজ্যিক চুক্তি হয়নি। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সরকারের পর্যায়ে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবহৃত জ্বালানি পরবর্তী সময়ে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে ব্যবস্থাপনা করার কথা রয়েছে।

তবে এ জন্য রাশিয়াকে কত অর্থ দিতে হবে, সে বিষয়ে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবহৃত জ্বালানি রিঅ্যাক্টরে প্রায় ১০ বছর সংরক্ষণ করা সম্ভব হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক চাপ নেই।

তবে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার পর প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভারী বর্জ্য তৈরি হবে। এসব বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য এখনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।