গুমের তদন্তে স্বাধীন ব্যবস্থা চায় এইচআরএফবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / 9
গুম প্রতিরোধ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত এবং গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে গুমের অভিযোগ তদন্তে সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।
রোববার (৩০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এইচআরএফবি জানায়, গুমকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে তদন্তব্যবস্থা স্বাধীন না হলে আইনে কঠোর শাস্তি ও প্রতিকারের বিধান থাকলেও তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিলের ধারা ১৪(৩)-এ কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে তদন্ত থেকে বিরত রাখার বিধান ইতিবাচক। তবে একই ধারায় অভিযুক্ত বাহিনী ছাড়া অন্য কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলের কাছে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এইচআরএফবির মতে, এক বাহিনীর পরিবর্তে অন্য বাহিনীকে তদন্তের দায়িত্ব দিলেই প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় না।
সংগঠনটি বলছে, গুমের অভিযোগ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তি বা বাহিনী থেকেই নয়, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব থেকেও স্বাধীন হতে হবে। কারণ তদন্তে আটক বা হেফাজতের নথি, ডিউটি রোস্টার, যানবাহনের তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ আলামত পরীক্ষা করতে হতে পারে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ বা সম্পৃক্ততার বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তাই তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন না হলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩’-এর অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে এইচআরএফবি। সংগঠনটির দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতন বা হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের তদন্তে পুলিশের ভূমিকা থাকায় তদন্তের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।
এইচআরএফবি বলছে, যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বাহিনী বা একই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অধীন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালিত হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। এর ফলে আইন থাকলেও ভুক্তভোগীরা অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
এই পরিস্থিতি এড়াতে গুমের অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ও বিশেষায়িত তদন্ত কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রয়োজনে পুলিশ বা অন্যান্য বাহিনীর কারিগরি সহায়তা নেওয়া যেতে পারে, তবে তদন্তের নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ স্বাধীন কর্তৃপক্ষের হাতে রাখার সুপারিশ করেছে এইচআরএফবি।
জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের আগে ধারা ১৪সহ তদন্তসংক্রান্ত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে অতীতে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোও স্বাধীন তদন্তব্যবস্থার আওতায় এনে সত্য উদঘাটন, দায় নির্ধারণ, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এইচআরএফবির মতে, অভিযুক্ত বাহিনীর পরিবর্তে অন্য কোনো বাহিনীকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যথেষ্ট নয়। গুমের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এমন একটি তদন্তব্যবস্থা প্রয়োজন, যা অভিযুক্ত ব্যক্তি, বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন।





























