২০২৭ সালের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্য বাংলাদেশ–মালয়েশিয়ার
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 32
ঢাকায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে একটি বিস্তৃত মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে অগ্রসর হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজার, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ প্রসারে একাধিক নতুন উদ্যোগে দুই দেশ একমত হয়েছে।
সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশ একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তিকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে একটি যৌথ ব্যবসায় পরিষদ গঠনের অগ্রগতিকে স্বাগত জানানো হয়। সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, হালাল শিল্প, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব খাতে সহযোগিতা বাড়ালে দুই দেশের বাণিজ্য কাঠামো আরও বহুমুখী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পেট্রোলিয়াম খাতে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি আলোচনার পথ আরও সুদৃঢ় করার কথাও উঠে আসে।
বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে তেল–গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরের মতো খনিজ সম্পদ আহরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেছে। এই খাতে অংশগ্রহণ বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হতে পারে বলে আলোচনা হয়।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে একটি যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ গঠনে সম্মতি জানানো হয়েছে। এই গ্রুপ শ্রমবাজারের চাহিদা, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং বিদ্যমান চুক্তির কার্যকারিতা পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে নতুন করে হালনাগাদ সমঝোতা স্মারক তৈরির ভিত্তি গঠনের কাজও এর আওতায় থাকবে।
বৈঠকে দুই দেশের নেতারা মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক অবদানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। মালয়েশিয়ার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভূমিকার প্রশংসাও করা হয়। কর্মী নিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হলেও তা দেশটির বিদ্যমান নীতিমালা ও চাহিদাভিত্তিক কোটার ওপর নির্ভর করবে বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
































