প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক ২৬ জুন
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / 27
আগামী ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের চূড়ান্ত দিনে অর্থাৎ ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এই মেগা সফরের বিস্তারিত সূচি ও এজেন্ডা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
মালয়েশিয়া সফর শেষ করে আগামী ২২ জুন বিকালের দিকে রওনা দিয়ে ওইদিন সন্ধ্যায়চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর নগরী ডালিয়ানে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ জুন ডব্লিউইএফ-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এছাড়া সামার দাভোসে অংশ নেওয়া কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গেও তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। চীন সফরের প্রথম দিন বিকালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম সম্মেলনে ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সন্ধ্যায় তিনিচীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে যোগ দেবেন। ২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী সামার দাভোসের ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনে অংশ নেবেন। এরপর দুপুরে তিনি ট্রেনযোগে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন এবং সেখানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওউথাই স্টেট গেস্ট হাউস’-এ অবস্থান করবেন।
২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের মিনিস্টার অব ইন্টারন্যাশনাল ডিপার্টমেন্ট অব সিপিসি সেন্ট্রাল, বাণিজ্যমন্ত্রী, সিআইডিসিএ’র চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আলাদা বৈঠক হবে। এরপর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ সম্মেলনে বক্তব্য রেখে চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৫ জুন বিকালে চীনের গ্রেট হলে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে। বৈঠকের পর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে এবং পরে তিনি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।
২৬ জুন সকালে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন, যেখানে regional বা আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এর ফাঁকে বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ওইদিন বিকালেই তিনি বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে সন্ধ্যায় দেশে পৌঁছাবেন।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান যে ২৮ সদস্যের এই যৌক্তিক সফরসঙ্গী নিয়ে সম্পন্ন হতে যাওয়া সফরটি দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বাংলাদেশে চীনের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে ঢাকা অবশ্যই বাংলাদেশে আরও বড় পরিসরে চীনা বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে।

































