ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশ একদলীয় শাসন ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • / 18

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান

শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দেন।

তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো—সব জায়গায় দলীয় আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রবণতাকে তিনি বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখান, যা তাঁর মতে গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

বক্তব্যে তিনি অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গও টানেন। একদলীয় শাসনের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাসে এমন ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং জনসমর্থনও পায়নি।

তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আচরণও সময়ের সঙ্গে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। সংসদে বিরোধী পক্ষকে অবমূল্যায়নের প্রবণতা নতুন কিছু নয়, তবে এটি এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। বাজেট বড় হওয়াকে তিনি সমস্যা হিসেবে না দেখলেও বাস্তবায়ন ও জবাবদিহির ঘাটতিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে অর্থনৈতিক কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে তিনি চাঁদাবাজি ও অব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন এবং বলেন, এসব প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে না এলে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বর্তমান সংসদ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা একাধিক ত্যাগ ও আন্দোলনের ফলাফল। এসব ঘটনা উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক বোঝাপড়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নারায়ণগঞ্জের জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং ঐক্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি বার্তা দিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দেশ একদলীয় শাসন ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে: জামায়াত আমির

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান

শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দেন।

তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো—সব জায়গায় দলীয় আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রবণতাকে তিনি বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখান, যা তাঁর মতে গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

বক্তব্যে তিনি অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গও টানেন। একদলীয় শাসনের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাসে এমন ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং জনসমর্থনও পায়নি।

তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আচরণও সময়ের সঙ্গে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। সংসদে বিরোধী পক্ষকে অবমূল্যায়নের প্রবণতা নতুন কিছু নয়, তবে এটি এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। বাজেট বড় হওয়াকে তিনি সমস্যা হিসেবে না দেখলেও বাস্তবায়ন ও জবাবদিহির ঘাটতিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে অর্থনৈতিক কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে তিনি চাঁদাবাজি ও অব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন এবং বলেন, এসব প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে না এলে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বর্তমান সংসদ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা একাধিক ত্যাগ ও আন্দোলনের ফলাফল। এসব ঘটনা উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক বোঝাপড়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নারায়ণগঞ্জের জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং ঐক্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি বার্তা দিয়েছে।