ভাগ্য ভালো আরও গোল হজম করিনি: দানিলো
- সর্বশেষ আপডেট ১২:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 10
বিশ্বকাপের মঞ্চে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে কোনো রকমে মাঠ ছাড়লেও নিজেদের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট হতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বিশেষ করে ম্যাচের প্রথমার্ধের চরম হতাশাজনক খেলা নিয়ে ম্যাচ শেষে প্রকাশ্যেই স্পষ্ট অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দানিলো। বোতাফোগোর এই তারকার মতে, শুরুর ৪৫ মিনিটে ব্রাজিলের খেলার ধরন এতটাই এলোমেলো ও অগোছালো ছিল যে, ভাগ্য পুরোপুরি সহায় না থাকলে তাদের জাল আরও কয়েকবার কেঁপে উঠত এবং আরও বেশি গোল হজম করতে হতো।
তবে প্রথমার্ধের সেই বিপর্যয় কাটিয়ে বিরতির পর কৌশলগত বেশ কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে ম্যাচে বেশ ভালোভাবেই ফিরে আসে সেলেসাওরা। দানিলোর বিশ্বাস, দ্বিতীয়ার্ধের এই দারুণ প্রত্যাবর্তন দলকে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর জন্য কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস জোগাবে। এর পাশাপাশি তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক যাত্রাটি যেমনটা হওয়ার কথা ছিল, তেমন কোনো ‘স্বপ্নের শুরু’ তারা করতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে খেলার ২১ মিনিটের মাথায় গোল খেয়ে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। তবে এর ঠিক ১১ মিনিট পর তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এক চোখধাঁধানো গোলে সমতা ফেরায় ল্যাটিন আমেরিকার দলটি। এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ ব্যবধানের ড্র নিয়ে দুই দলকে মাঠ ছাড়তে হয়।
ম্যাচের ৮০তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা দানিলো প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন। তাঁর নিজের ভাষায়, “প্রথমার্ধের খেলায় আমরা মাঠের পারফরম্যান্সে খুবই খারাপ করেছি। অবস্থান (পজিশনিং), টেকনিক কিংবা ট্যাকটিক্স— সব দিক থেকেই আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল ও পিছিয়ে ছিলাম।”
ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার আরও যোগ করে বলেন, ম্যাচের শুরু থেকেই পুরো দল এক ধরণের তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিল এবং সেই বাড়তি চাপ থেকেই মাঠের ভেতরে একের পর এক ভুল পাস ও ভুল সিদ্ধান্ত এসেছে। তাঁর মতে, “আমরা ম্যাচের শুরুতেই খুবই নার্ভাস ছিলাম এবং আমাদের ভেতর এক ধরণের অস্থিরতা কাজ করছিল। আমাদের ভাগ্য কেবল ভালো ছিল বলেই প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হজম করতে হয়নি।” তবে দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সে কিছুটা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দানিলো বলেন, সেই সময়ে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে পারায় দল নিজেদের হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও ফিরে পেয়েছে।
অন্যদিকে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোও মনে করেন যে, প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল অনেক বেশি গোছানো ও ভালো ফুটবল খেলেছে। তাঁর ভাষায়, মরক্কো শুরু থেকেই ফুটবল মাঠে অত্যন্ত কঠিন ও বৈরি এক প্রতিপক্ষ ছিল এবং ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচটা জেতা কোনোভাবেই সহজ ছিল না। কাসেমিরো বলেন, “আমরা সবসময়ই একটি বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমাদের একটি কঠিন লড়াই। সংগত কারণেই শুরুটা আমাদের প্রত্যাশামতো হয়নি।”
মরক্কোর বিপক্ষে এই ড্রয়ের ধাক্কা ভুলে এখন পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সেলেসাওরা। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ২০ জুন (শনিবার) হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।


































