ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলন নয়, আইনেই ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে সিদ্ধান্ত—বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • / 145

ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, কোনো ব্যাংক-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, বরং বিদ্যমান আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।

সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, যে কোনো ইস্যুতে নাগরিকদের মত প্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও ব্যাংক খাতের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই রাস্তার চাপ বা আবেগনির্ভর পরিস্থিতিতে নির্ধারিত হবে না। তাঁর মতে, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের কঠোর প্রয়োগই এখানে মূল ভিত্তি।

তিনি আরও জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা ব্যাংকের পরিচালক পদে থাকতে পারেন না। সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণের তথ্য এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে পাওয়া অভিযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব যাচাই এখন আরও কঠোর করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি, নতুন চেয়ারম্যানকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধ এবং গ্রাহক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথাও উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে। তিনি জানান, বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের আসন্ন বোর্ড সভা সরাসরি না করে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, ব্যাংক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব বরদাশত করা হবে না—এ বিষয়ে গভর্নরের অবস্থানও কঠোর। কোনো কর্মকর্তা চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি জানাতে পারবেন এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ব্যাংককে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে যে কোনো ব্যাংক অযাচিতভাবে রাজনৈতিক সংকটের অংশ হয়ে উঠছে কি না। তাঁর মতে, কোনো ব্যাংকই কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; এ ধরনের প্রবণতা ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য স্পষ্ট সতর্ক সংকেত।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আন্দোলন নয়, আইনেই ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে সিদ্ধান্ত—বাংলাদেশ ব্যাংক

সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, কোনো ব্যাংক-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, বরং বিদ্যমান আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।

সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, যে কোনো ইস্যুতে নাগরিকদের মত প্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও ব্যাংক খাতের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই রাস্তার চাপ বা আবেগনির্ভর পরিস্থিতিতে নির্ধারিত হবে না। তাঁর মতে, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের কঠোর প্রয়োগই এখানে মূল ভিত্তি।

তিনি আরও জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা ব্যাংকের পরিচালক পদে থাকতে পারেন না। সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণের তথ্য এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে পাওয়া অভিযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব যাচাই এখন আরও কঠোর করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি, নতুন চেয়ারম্যানকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধ এবং গ্রাহক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথাও উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে। তিনি জানান, বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের আসন্ন বোর্ড সভা সরাসরি না করে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, ব্যাংক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব বরদাশত করা হবে না—এ বিষয়ে গভর্নরের অবস্থানও কঠোর। কোনো কর্মকর্তা চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি জানাতে পারবেন এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ব্যাংককে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে যে কোনো ব্যাংক অযাচিতভাবে রাজনৈতিক সংকটের অংশ হয়ে উঠছে কি না। তাঁর মতে, কোনো ব্যাংকই কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; এ ধরনের প্রবণতা ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য স্পষ্ট সতর্ক সংকেত।