ইউরোপে মার্কিন সেনা নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের উদ্বেগ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
- / 19
ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের উদ্বেগ প্রশমনের চেষ্টা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সুইডেনে অনুষ্ঠিত ন্যাটো বৈঠকের শেষ দিকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবেই সেনা অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে, যা কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়।
নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে পোল্যান্ডে অতিরিক্ত ৫ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানো হবে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই একই দেশে ৪ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছিল। একই সময়ে জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণাও আসে।
এই পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেরিয়া মালমার স্টেনারগার্ড বিষয়টিকে “নেভিগেট করা কঠিন” বলে মন্তব্য করেন। তবে রুবিও দাবি করেন, ন্যাটোর ভেতরে বিষয়টি আগেই সমন্বিতভাবে আলোচনা হয়েছে এবং সবাই মোটামুটি অবগত।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক দায়িত্বের কারণে সেনা উপস্থিতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমন্বয় করা হয়—এটি নতুন কিছু নয়। তার ভাষায়, “সবাই এতে খুশি নাও হতে পারে, তবে তারা বিষয়টি জানে।”
ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে এটি ন্যাটোর প্রতিরোধ কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩৬ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। ইতালি, যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ডেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা মোতায়েন রয়েছে।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, আর তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার নিয়ে আলোচনা নতুন করে জোরদার হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই ন্যাটোকে ঘিরে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনামুখর থেকেছে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইউরোপের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমানোর প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। রুবিওও স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাটো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে, যেখানে ইউরোপ ও আমেরিকার স্বার্থ একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি হয়ে উঠছে।

































