ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এশিয়ার বাণিজ্য মানচিত্র বদলে দিচ্ছে চীনের ‘পিংলু খাল’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • / 40

চীনের বিশাল অবকাঠামো প্রকল্প ‘পিংলু খাল’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে দেশটির বাণিজ্যিক সংযোগে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই চালুর পথে থাকা এই জলপথকে শুধু অর্থনৈতিক নয়, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে নির্মাণাধীন ১৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘পিংলু খাল’ এখন শেষ পর্যায়ের কাজে পৌঁছেছে। প্রায় ১০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প আগামী সেপ্টেম্বরেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

খালটি চালু হলে গুয়াংসি অঞ্চলের রাজধানী নাননিংয়ের সঙ্গে হাইনান মুক্ত বাণিজ্য বন্দর সরাসরি যুক্ত হবে। এর ফলে চীনের অভ্যন্তরীণ নদীপথ প্রথমবারের মতো সরাসরি বেইবু উপসাগরের সঙ্গে সংযোগ পাবে। এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও কম খরচে সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই নৌপথ চালু হলে পশ্চিম চীন থেকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে পণ্য পরিবহনের দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে আসবে। এতে পরিবহন ব্যয় ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে বছরে শত শত মিলিয়ন ডলার লজিস্টিক খরচ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

এতদিন চীনের পশ্চিম ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোর পণ্য সমুদ্রপথে পাঠাতে গুয়াংডং প্রদেশ ঘুরে যেতে হতো। নতুন খাল সেই দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথের বিকল্প তৈরি করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের সময় আসিয়ান অঞ্চলকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে বেইজিং। সেই প্রেক্ষাপটে পিংলু খাল শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং আঞ্চলিক বাণিজ্যে প্রভাব বাড়ানোর কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার মালবাহী জাহাজ চলাচলের উপযোগী এই খালকে গত পাঁচ দশকে চীনের সবচেয়ে বড় ‘নদী-থেকে-সমুদ্র’ সংযোগ প্রকল্প বলা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী চীন-আসিয়ান এক্সপোর সময় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে এই মেগা খালের।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এশিয়ার বাণিজ্য মানচিত্র বদলে দিচ্ছে চীনের ‘পিংলু খাল’

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

চীনের বিশাল অবকাঠামো প্রকল্প ‘পিংলু খাল’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে দেশটির বাণিজ্যিক সংযোগে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই চালুর পথে থাকা এই জলপথকে শুধু অর্থনৈতিক নয়, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে নির্মাণাধীন ১৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘পিংলু খাল’ এখন শেষ পর্যায়ের কাজে পৌঁছেছে। প্রায় ১০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প আগামী সেপ্টেম্বরেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

খালটি চালু হলে গুয়াংসি অঞ্চলের রাজধানী নাননিংয়ের সঙ্গে হাইনান মুক্ত বাণিজ্য বন্দর সরাসরি যুক্ত হবে। এর ফলে চীনের অভ্যন্তরীণ নদীপথ প্রথমবারের মতো সরাসরি বেইবু উপসাগরের সঙ্গে সংযোগ পাবে। এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও কম খরচে সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই নৌপথ চালু হলে পশ্চিম চীন থেকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে পণ্য পরিবহনের দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে আসবে। এতে পরিবহন ব্যয় ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে বছরে শত শত মিলিয়ন ডলার লজিস্টিক খরচ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

এতদিন চীনের পশ্চিম ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোর পণ্য সমুদ্রপথে পাঠাতে গুয়াংডং প্রদেশ ঘুরে যেতে হতো। নতুন খাল সেই দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথের বিকল্প তৈরি করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের সময় আসিয়ান অঞ্চলকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে বেইজিং। সেই প্রেক্ষাপটে পিংলু খাল শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং আঞ্চলিক বাণিজ্যে প্রভাব বাড়ানোর কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার মালবাহী জাহাজ চলাচলের উপযোগী এই খালকে গত পাঁচ দশকে চীনের সবচেয়ে বড় ‘নদী-থেকে-সমুদ্র’ সংযোগ প্রকল্প বলা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী চীন-আসিয়ান এক্সপোর সময় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে এই মেগা খালের।