নবম পে-স্কেলে বড় সুখবর
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / 10
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্তের পথে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বেতন, ভাতা ও পেনশন বৃদ্ধিসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত কমিটি বৈঠকে বসছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে সুপারিশ চূড়ান্ত হলে দ্রুত তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। এরপরের অর্থবছরে যুক্ত হবে বিভিন্ন ভাতা ও বাড়তি আর্থিক সুবিধা। আগামী জুলাই থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের অর্ধেক পাবেন, বাকি অংশ কার্যকর হবে পরবর্তী অর্থবছরে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একসঙ্গে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা সমন্বয় করায় ব্যয়ের চাপ কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। সে কারণে আগামী বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় প্রশাসন, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, বিচার বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।
জানা গেছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় বিভিন্ন ধাপের বৈষম্য কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
পেনশনভোগীদের জন্যও বড় ধরনের সুবিধার প্রস্তাব এসেছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এছাড়া ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং এর বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরির বর্তমান ২০টি ধাপ বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।































