বরিশালে তিন বছরে বিচ্ছেদ সাড়ে ১০ হাজার, নারীর সংখ্যা বেশি
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
- / 18
বরিশালে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, আর এই প্রবণতায় সামনে উঠে আসছেন নারীরা। জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য বলছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯টি তালাক আবেদন জমা পড়ছে, যা সামাজিক সম্পর্কের ভেতরের চাপ ও ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বরিশালে গত তিন বছরে বিবাহ ও বিচ্ছেদের পরিসংখ্যান এক ধরনের অস্বস্তিকর চিত্র তুলে ধরছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার ১৩টি বিয়ে নিবন্ধিত হলেও একই সময়ে ১০ হাজার ৭৩৮টি দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি ঘটেছে। অর্থাৎ নিবন্ধিত বিয়ের তুলনায় বিচ্ছেদের হার ক্রমেই বাড়ছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ৯ হাজার ৬৬৬টি বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদ হয় ৩ হাজার ৫টি। ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৯৭৮টি বিয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৩৪৭টি বিচ্ছেদ ঘটে। আর চলতি বছরে ১৩ হাজার ৩৬৯টি বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮৬টিতে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রবণতা শুধু সংখ্যার বিষয় নয়; এর ভেতরে সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পারিবারিক দূরত্ব, মানসিক অমিল এবং অর্থনৈতিক চাপ দাম্পত্য জীবনে বড় ভূমিকা রাখছে বলে তারা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে, অবিশ্বাস, উচ্চাভিলাষী জীবন প্রত্যাশা এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেক সম্পর্ককে টিকতে দিচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর দ্রুত বিয়ে হলেও বাস্তব জীবনের দায়িত্বে মানিয়ে নিতে না পারায় সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে—এমন চিত্রও বাড়ছে।
এর পাশাপাশি যৌতুকের চাপ, পারিবারিক নির্যাতন, পরকীয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদকাসক্তির মতো বিষয়গুলোও বিচ্ছেদের পেছনে ভূমিকা রাখছে। কিছু ক্ষেত্রে স্বামীর বেকারত্ব বা মাদকাসক্তি, আবার কোথাও স্ত্রীর দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা সম্পর্ক ভাঙনের কারণ হিসেবে সামনে আসছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশাল শাখার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা বলেন, অনেক বিয়ে এখন আবেগ ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর দাঁড়াচ্ছে, যেখানে পারস্পরিক বোঝাপড়া দুর্বল থেকে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সন্তান ও পারিবারিক স্থিতিশীলতার ওপর।
ব্লাস্ট বরিশাল কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট শাহিদা বেগমের মতে, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতাও এই পরিস্থিতিকে ত্বরান্বিত করছে।
বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মৃধা জানান, মামলা ও অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ উঠে আসছে।
জেলা রেজিস্ট্রার মো. মোহছেন মিয়া বলেন, তালাক আবেদনকারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। তাঁর আশঙ্কা, এই প্রবণতা ২০২৬ সালেও অব্যাহত থাকতে পারে, এমনকি আরও বাড়তে পারে।
































