গৃহকর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সংহতির আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / 15
গৃহকর্মী শ্রমিক হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি, সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদা থেকে আজো বঞ্চিত। অদৃশ্য শ্রমের ভার কাঁধে নিয়ে তারা প্রতিদিন কাজ করলেও তাদের অধিকার আজও অনিরাপদ ও উপেক্ষিত। সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতি গৃহকর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সংহতির আহ্বান জানান।
শুক্রবার (১ মে) “শ্রমিক-মালিক এক হয়ে, গড়বো এ দেশ নতুন করে” এ স্লোগানকে সামনে রেখে গৃহকর্মী জাতীয় ফোরাম–বাংলাদেশের আয়োজনে সচেতনতামূলক ট্রাক ক্যাম্পেইনে বক্তারা একথা বলেন।
মহান মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহকর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার দাবিকে আরও জোরালো করতে সচেতনতামূলক ট্রাক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। প্রেস ক্লাব থেকে যাত্রা শুরু করে পল্টন, জিপিও, গোল চত্বর হয়ে শংকর বাস স্ট্যান্ডে এসে তা শেষ হয়।
কানাডা সরকারের অর্থায়নে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) ও কর্মজীবী নারী পরিচালিত “সুনীতি” প্রকল্পের আওতায় গৃহকমীদের উন্নয়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
গৃহকর্মী জাতীয় ফোরাম–বাংলাদেশের সভাপতি জাকিয়া সুলতানা বলেন, “গৃহকর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করা মানেই মানবাধিকার নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রকে অবশ্যই গৃহকর্মীদের পূর্ণ শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে গৃহকর্মী ও গৃহকর্তা উভয়ের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত হবে। একটি জবাবদিহিমূলক ও নিবন্ধিত ব্যবস্থা সময়ের দাবি।”
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন না করার কারণ জানতে হাইকোর্টের রুল জারি নতুন আশার সঞ্চার করেছে। গৃহকর্মী জাতীয় ফোরামের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, নিবন্ধিত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গৃহকর্মী ও গৃহকর্তা উভয়ের নিরাপত্তা, আস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
গৃহকর্মীরা জনসমক্ষে তাদের অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
• শ্রম আইনের সকল অধ্যায়ে গৃহকর্মীদের পূর্ণ স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
• ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার ও শ্রম বিধিমালা দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
• বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা
• লিখিত নিয়োগপত্র নিশ্চিত করা।
• সাপ্তাহিক ছুটি ও সবেতন সরকারি ছুটি কার্যকর করা।
• ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করা।
• নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা।
• শোষণ, নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা।
• অবসরকালীন ভাতা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
• স্বাস্থ্যসেবা কার্ড চালুর মাধ্যমে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা।



































