ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামিল-বৃষ্টি হত্যা: ইউএসএফ-এ শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্বলন

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / 14

জামিল-বৃষ্টি হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমনের অকাল মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের স্মরণে ক্যাম্পাসের ক্রিসেন্ট হিল এলাকায় আয়োজিত শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা অংশ নেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ তহবিল গঠনসহ মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ইউএসএফ প্রেসিডেন্ট এক আবেগঘন শোকবার্তায় নাহিদা ও জামিলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণীয় শিক্ষার্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ক্যাম্পাসের স্মৃতিস্তম্ভে নাম খোদাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ট্র্যাজেডির পর ক্যাম্পাসের ক্রিসেন্ট হিল এলাকায় আয়োজিত বিশাল শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় অফ-ক্যাম্পাস আবাসনগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে।

গত শুক্রবার স্থানীয় পুলিশ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করে এবং বৃষ্টির মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করাসহ মোট ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মূলত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কীভাবে দুটি সম্ভাবনাময় প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, তা এখন তদন্তের মূল বিষয়।

নিহত শিক্ষার্থীদের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট জেনারেলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। শোকাহত শিক্ষার্থীদের মানসিক বিপর্যয় কাটাতে ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা কাউন্সিলিং ও স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি প্রমাণ করে যে, নাহিদা ও জামিল ক্যাম্পাসে কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। অবশেষে বলা যায়, এই শোক কাটিয়ে উঠতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটি এখন ঐক্যবদ্ধ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জামিল-বৃষ্টি হত্যা: ইউএসএফ-এ শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্বলন

সর্বশেষ আপডেট ০১:১৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমনের অকাল মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের স্মরণে ক্যাম্পাসের ক্রিসেন্ট হিল এলাকায় আয়োজিত শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা অংশ নেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ তহবিল গঠনসহ মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ইউএসএফ প্রেসিডেন্ট এক আবেগঘন শোকবার্তায় নাহিদা ও জামিলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণীয় শিক্ষার্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ক্যাম্পাসের স্মৃতিস্তম্ভে নাম খোদাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ট্র্যাজেডির পর ক্যাম্পাসের ক্রিসেন্ট হিল এলাকায় আয়োজিত বিশাল শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় অফ-ক্যাম্পাস আবাসনগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে।

গত শুক্রবার স্থানীয় পুলিশ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করে এবং বৃষ্টির মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করাসহ মোট ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মূলত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কীভাবে দুটি সম্ভাবনাময় প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, তা এখন তদন্তের মূল বিষয়।

নিহত শিক্ষার্থীদের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট জেনারেলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। শোকাহত শিক্ষার্থীদের মানসিক বিপর্যয় কাটাতে ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা কাউন্সিলিং ও স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি প্রমাণ করে যে, নাহিদা ও জামিল ক্যাম্পাসে কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। অবশেষে বলা যায়, এই শোক কাটিয়ে উঠতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটি এখন ঐক্যবদ্ধ।