ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 21

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষা, তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, ফ্যাক্ট-চেকিং জোরদার এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। সেসঙ্গে বাংলাদেশে মতপ্রকাশ এবং ডিজিটাল স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার অধিকারভিত্তিক অ্যাডভোকেসি সংস্থা ‘ভয়েস’-এর উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংশ্লিষ্ট অধিকারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদনের প্রধান ফলাফল, বিশ্লেষণ এবং সুপারিশসমূহে বক্তারা একথা বলেন।
ভয়েস-এর উপপরিচালক মুশাররাত মাহেরা ও প্রোগ্রাম সাপোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট বন্ধন দাস

চলমান গণমাধ্যম পর্যালোচনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য তুলে ধরেন। এছাড়াও সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণমাধ্যম ও জেন্ডার গবেষক এবং শিক্ষক আফরোজা সোমা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি শারাবান তহুরা, বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম।

আলোচনায় অংশ নেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন, নাগরিক উদ্যোগের নাদিরা পারভিন, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের মো. আমিনুর রসুল, সেরাক বাংলাদেশের এস. এম. সৈকত, সাংগাতের প্রতিনিধি বিপাশা সাঈদ, অধিকারকর্মী মঞ্জু রানি প্রামাণিক প্রমুখ।

মুশাররাত মাহেরা বলেন, “গত ছয় মাসে আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ৬৭টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছি। এ ধরনের ঘটনার স্বাভাবিকীকরণ প্রতিহত করতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হবে।”

বন্ধন দাস বলেন, “গণমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ধারাবাহিক ঘটনা বিশ্লেষণ করেছি এবং দেখেছি যে এ ঘটনাগুলির তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে, মব-সহিংসতা একটি ক্রমবর্ধমান ও উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।”

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের ওপর প্রভাব ফেলছে এমন বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ, অনলাইন মতপ্রকাশের অপরাধীকরণ, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ, জনসম্মুখে নারীর প্রতি সহিংসতা, এবং ধর্মীয় ও শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান সীমাবদ্ধতা। তারা উল্লেখ করেন, এসব ঘটনা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করছে।

মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন বলেন, ডিজিটাল আইনসহ অন্যান্য আইন প্রণয়নের সময় গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ থাকলেও তাদের সুপারিশগুলো সবসময় চূড়ান্ত সংস্করণে প্রতিফলিত হয় না, যা নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণের কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে সীমিত করতে পারে।

আফরোজা সোমা নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর বিষয়ে আরও গভীর অনুসন্ধান এবং অধিকতর স্বচ্ছতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা কে নির্ধারণ করে, এবং সেই স্বাধীনতা খর্ব হলে কার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়।”

শারাবান তহুরা বলেন, সামাজিক মাধ্যমে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর কনটেন্টের বিস্তার, ক্রমশ সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণের ওপর প্রভাব ফেলছে, যা ডিজিটাল ও নাগরিক পরিসরে অপতথ্যের ভয়াবহতাকে তুলে ধরে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের দাবি

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষা, তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, ফ্যাক্ট-চেকিং জোরদার এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। সেসঙ্গে বাংলাদেশে মতপ্রকাশ এবং ডিজিটাল স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার অধিকারভিত্তিক অ্যাডভোকেসি সংস্থা ‘ভয়েস’-এর উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংশ্লিষ্ট অধিকারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদনের প্রধান ফলাফল, বিশ্লেষণ এবং সুপারিশসমূহে বক্তারা একথা বলেন।
ভয়েস-এর উপপরিচালক মুশাররাত মাহেরা ও প্রোগ্রাম সাপোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট বন্ধন দাস

চলমান গণমাধ্যম পর্যালোচনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য তুলে ধরেন। এছাড়াও সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণমাধ্যম ও জেন্ডার গবেষক এবং শিক্ষক আফরোজা সোমা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি শারাবান তহুরা, বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম।

আলোচনায় অংশ নেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন, নাগরিক উদ্যোগের নাদিরা পারভিন, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের মো. আমিনুর রসুল, সেরাক বাংলাদেশের এস. এম. সৈকত, সাংগাতের প্রতিনিধি বিপাশা সাঈদ, অধিকারকর্মী মঞ্জু রানি প্রামাণিক প্রমুখ।

মুশাররাত মাহেরা বলেন, “গত ছয় মাসে আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ৬৭টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছি। এ ধরনের ঘটনার স্বাভাবিকীকরণ প্রতিহত করতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হবে।”

বন্ধন দাস বলেন, “গণমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ধারাবাহিক ঘটনা বিশ্লেষণ করেছি এবং দেখেছি যে এ ঘটনাগুলির তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে, মব-সহিংসতা একটি ক্রমবর্ধমান ও উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।”

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের ওপর প্রভাব ফেলছে এমন বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ, অনলাইন মতপ্রকাশের অপরাধীকরণ, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ, জনসম্মুখে নারীর প্রতি সহিংসতা, এবং ধর্মীয় ও শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান সীমাবদ্ধতা। তারা উল্লেখ করেন, এসব ঘটনা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করছে।

মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন বলেন, ডিজিটাল আইনসহ অন্যান্য আইন প্রণয়নের সময় গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ থাকলেও তাদের সুপারিশগুলো সবসময় চূড়ান্ত সংস্করণে প্রতিফলিত হয় না, যা নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণের কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে সীমিত করতে পারে।

আফরোজা সোমা নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর বিষয়ে আরও গভীর অনুসন্ধান এবং অধিকতর স্বচ্ছতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা কে নির্ধারণ করে, এবং সেই স্বাধীনতা খর্ব হলে কার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়।”

শারাবান তহুরা বলেন, সামাজিক মাধ্যমে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর কনটেন্টের বিস্তার, ক্রমশ সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণের ওপর প্রভাব ফেলছে, যা ডিজিটাল ও নাগরিক পরিসরে অপতথ্যের ভয়াবহতাকে তুলে ধরে।