ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে এইডসে আক্রান্তদের বেশিরভাগই সমকামী ও শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 45

বিশ্বের প্রথম এইডস টিকা তৈরি করছে রাশিয়া

দেশে এইডস চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মানুষ। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ সমকামী এবং তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাই শিক্ষার্থী—যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য নতুন করে ভাবনার বিষয় হয়ে উঠছে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ জন এইডস রোগী চিকিৎসাধীন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এসটিডি) ও মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এদের প্রায় অর্ধেকই সমকামী। আরও লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো—এই গোষ্ঠীর আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই শিক্ষার্থী, যারা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের কাছে ক্রমেই উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সমকামী আক্রান্তদের মধ্যে ২১ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী রয়েছেন ৩১ শতাংশ, আর বাকি ৪৮ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের বেশি। অন্যদিকে, সমকামী গোষ্ঠীর বাইরে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। এদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।

রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি এইচআইভি শনাক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। গত বছর এখানে ২৯৩ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়। চলতি বছর প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০টি পরীক্ষা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ২৮ থেকে ৩০ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ছে। এদের প্রায় ৭০ শতাংশই সমকামী।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্তকরণ কেন্দ্র মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। এখানে ২৫ শয্যার বিশেষ ইউনিটে বর্তমানে ২২ জন রোগী চিকিৎসাধীন। প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে ১০ জন রোগী এইডসজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। ২০২৫ সালে ২ হাজার ৯২টি পরীক্ষায় ২৭২ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হন। তাদের মধ্যে ১১৭ জন পুরুষ সমকামী, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।

হাসপাতালটির পরামর্শক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. লিটন খান জানান, আগে যৌনকর্মী ও মাদকসেবীদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা গেলেও এখন সেই প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। বরং বর্তমানে সমকামীদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

রাজধানীর বাইরে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কেন্দ্রে বর্তমানে সাড়ে তিন শতাধিক রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ২৪১টি নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জন সমকামী, এবং তাদের মধ্যে আটজনই শিক্ষার্থী।

এই কেন্দ্রের পরামর্শক সুদেব কুমার বিশ্বাস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমকামী আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিক্ষার্থী। তারা কীভাবে সংক্রমিত হচ্ছেন, তা বোঝার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সিনিয়র ম্যানেজার মো. আখতারুজ্জামান বলেন, অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর তুলনায় বর্তমানে সমকামীদের মধ্যেই সংক্রমণের হার বেশি। একসময় যৌনকর্মীরা শীর্ষে থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পরে মাদকসেবীদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়লেও সেটিও কমেছে। এখন ঝুঁকির কেন্দ্রে রয়েছে সমকামী জনগোষ্ঠী।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি আলাদা নয়। ইউএনএইডসের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইডসে আক্রান্ত, যার একটি বড় অংশ সমকামী জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নতুন নয়। ১৯৮৫ সালে রোগী শনাক্তের আগেই জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়। প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। পরবর্তীতে বেসরকারি পর্যায়ে ২০১০ সালে কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১৬ সালে সরকারি কর্মসূচি চালু হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দেশে এইডসে আক্রান্তদের বেশিরভাগই সমকামী ও শিক্ষার্থী

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশে এইডস চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মানুষ। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ সমকামী এবং তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাই শিক্ষার্থী—যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য নতুন করে ভাবনার বিষয় হয়ে উঠছে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ জন এইডস রোগী চিকিৎসাধীন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এসটিডি) ও মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এদের প্রায় অর্ধেকই সমকামী। আরও লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো—এই গোষ্ঠীর আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই শিক্ষার্থী, যারা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের কাছে ক্রমেই উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সমকামী আক্রান্তদের মধ্যে ২১ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী রয়েছেন ৩১ শতাংশ, আর বাকি ৪৮ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের বেশি। অন্যদিকে, সমকামী গোষ্ঠীর বাইরে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। এদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।

রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি এইচআইভি শনাক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। গত বছর এখানে ২৯৩ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়। চলতি বছর প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০টি পরীক্ষা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ২৮ থেকে ৩০ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ছে। এদের প্রায় ৭০ শতাংশই সমকামী।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্তকরণ কেন্দ্র মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। এখানে ২৫ শয্যার বিশেষ ইউনিটে বর্তমানে ২২ জন রোগী চিকিৎসাধীন। প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে ১০ জন রোগী এইডসজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। ২০২৫ সালে ২ হাজার ৯২টি পরীক্ষায় ২৭২ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হন। তাদের মধ্যে ১১৭ জন পুরুষ সমকামী, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।

হাসপাতালটির পরামর্শক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. লিটন খান জানান, আগে যৌনকর্মী ও মাদকসেবীদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা গেলেও এখন সেই প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। বরং বর্তমানে সমকামীদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

রাজধানীর বাইরে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কেন্দ্রে বর্তমানে সাড়ে তিন শতাধিক রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ২৪১টি নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জন সমকামী, এবং তাদের মধ্যে আটজনই শিক্ষার্থী।

এই কেন্দ্রের পরামর্শক সুদেব কুমার বিশ্বাস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমকামী আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিক্ষার্থী। তারা কীভাবে সংক্রমিত হচ্ছেন, তা বোঝার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সিনিয়র ম্যানেজার মো. আখতারুজ্জামান বলেন, অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর তুলনায় বর্তমানে সমকামীদের মধ্যেই সংক্রমণের হার বেশি। একসময় যৌনকর্মীরা শীর্ষে থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পরে মাদকসেবীদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়লেও সেটিও কমেছে। এখন ঝুঁকির কেন্দ্রে রয়েছে সমকামী জনগোষ্ঠী।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি আলাদা নয়। ইউএনএইডসের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইডসে আক্রান্ত, যার একটি বড় অংশ সমকামী জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নতুন নয়। ১৯৮৫ সালে রোগী শনাক্তের আগেই জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়। প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। পরবর্তীতে বেসরকারি পর্যায়ে ২০১০ সালে কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১৬ সালে সরকারি কর্মসূচি চালু হয়।