ইসলামাবাদে আরাগচি
- সর্বশেষ আপডেট ১০:১৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 21
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের অচলাবস্থার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আবারও গতি পাচ্ছে—এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য পাকিস্তান সফর নতুন হিসাব-নিকাশ তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মাঝে আলোচনার সম্ভাবনা আবার সামনে এসেছে।
পাকিস্তানের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা নড়াচড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এর আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে আরাগচি টেলিফোনে কথা বলেছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে বলে, আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপের দিকগুলো উঠে এসেছে। বিষয়টি ইঙ্গিত দেয়, আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত হলেও অবস্থান এখনো পুরোপুরি নমনীয় হয়নি।
ইরানি বার্তাসংস্থা ইরনা জানায়, আরাগচি আলাদাভাবে পাকিস্তানের সামরিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। এই ধারাবাহিক যোগাযোগকে অনেকেই সম্ভাব্য বৈঠকের প্রাথমিক মঞ্চ তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে ইসলামাবাদে প্রস্তুতি ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই শহরটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, পাশের রাওয়ালপিন্ডিতেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুটি হোটেল আগেভাগে বুকিং রাখা হয়েছে—যা সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ইঙ্গিত বহন করে বলেই মনে হচ্ছে।
তবে এখানেই দ্বিধা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে এখনো রাজি হয়নি ইরান। এই অবস্থান আলোচনার পথকে অনিশ্চিত করে রাখছে।
তবু সমান্তরালে অন্য ছবি আছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে অন্তত ৯টি মার্কিন বিমান ইসলামাবাদে পৌঁছেছে—যেগুলোতে ছিল যোগাযোগ সরঞ্জাম, যানবাহন, নিরাপত্তা কর্মী এবং কারিগরি দল।
এই উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল, আবার কিছুটা সম্ভাবনাময়ও করে তুলছে—যেন দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়, আবার পুরোপুরি খোলাও হয়নি।


































