ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ বছর বয়সী ইরানিরাও যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • / 174

ইরানে সামরিক সহায়তা কাজে শিশুদের অংশগ্রহণের ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ১২ বছর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।

এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই শিশু অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি একটি নতুন কর্মসূচির আওতায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানান, ‘ফর ইরান’ নামে এই উদ্যোগে শিশুদের টহল, চেকপোস্ট পরিচালনা এবং রসদ সরবরাহের মতো কাজে যুক্ত করা হবে।

তেহরানে আইআরজিসির সাংস্কৃতিক শাখার কর্মকর্তা রহিম নাদালি দাবি করেন, কম বয়সীরাই স্বেচ্ছায় এসব কার্যক্রমে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

সেই কারণেই বয়সসীমা কমিয়ে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তার ভাষ্যে, ১২ ও ১৩ বছর বয়সীরা এখন চাইলে সরাসরি এসব দায়িত্বে অংশ নিতে পারবে।

তবে এই ব্যাখ্যা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর মনে হচ্ছে। কারণ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের এমন কাজে যুক্ত করা কতটা স্বেচ্ছাসেবামূলক, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। বিশেষ করে অতীতের ঘটনাগুলো এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

২০২২ সালে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তখনও সামরিক পোশাকে শিশুদের রাস্তায় টহল দিতে দেখা গিয়েছিল।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এর আগে বিক্ষোভ দমনের সময় শতাধিক শিশুর প্রাণহানির অভিযোগও উঠেছিল মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বহুবার অভিযোগ করেছে, ইরানে শিশুদের আটক, নির্যাতন এবং বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।

নতুন এই সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে দেশটিতে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে। এমন বাস্তবতায় সামরিক কাজে শিশুদের সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবাধিকার সংকট ডেকে আনতে পারে—এমন আশঙ্কাই জোরালো হয়ে উঠছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

১২ বছর বয়সী ইরানিরাও যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ইরানে সামরিক সহায়তা কাজে শিশুদের অংশগ্রহণের ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ১২ বছর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।

এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই শিশু অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি একটি নতুন কর্মসূচির আওতায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানান, ‘ফর ইরান’ নামে এই উদ্যোগে শিশুদের টহল, চেকপোস্ট পরিচালনা এবং রসদ সরবরাহের মতো কাজে যুক্ত করা হবে।

তেহরানে আইআরজিসির সাংস্কৃতিক শাখার কর্মকর্তা রহিম নাদালি দাবি করেন, কম বয়সীরাই স্বেচ্ছায় এসব কার্যক্রমে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

সেই কারণেই বয়সসীমা কমিয়ে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তার ভাষ্যে, ১২ ও ১৩ বছর বয়সীরা এখন চাইলে সরাসরি এসব দায়িত্বে অংশ নিতে পারবে।

তবে এই ব্যাখ্যা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর মনে হচ্ছে। কারণ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের এমন কাজে যুক্ত করা কতটা স্বেচ্ছাসেবামূলক, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। বিশেষ করে অতীতের ঘটনাগুলো এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

২০২২ সালে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তখনও সামরিক পোশাকে শিশুদের রাস্তায় টহল দিতে দেখা গিয়েছিল।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এর আগে বিক্ষোভ দমনের সময় শতাধিক শিশুর প্রাণহানির অভিযোগও উঠেছিল মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বহুবার অভিযোগ করেছে, ইরানে শিশুদের আটক, নির্যাতন এবং বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।

নতুন এই সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে দেশটিতে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে। এমন বাস্তবতায় সামরিক কাজে শিশুদের সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবাধিকার সংকট ডেকে আনতে পারে—এমন আশঙ্কাই জোরালো হয়ে উঠছে।