ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামের ছোবল, কাল থেকে বিশেষ টিকাদান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 77

হাম

দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে দ্বিতীয় দফায় শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

এ কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদেরও টিকা দেওয়া হবে। এবার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে বিশেষ টিকাদানের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

হামে আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, অনেক শিশুই অসুস্থ থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে টিকা নিতে পারেনি। জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা অন্য অসুস্থতার কারণে অনেক অভিভাবক টিকা দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম থেকে সুরক্ষায় শিশুদের শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে টিকা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্ধারিত বয়সে নিয়মিত টিকার পাশাপাশি বিশেষ কর্মসূচিতেও শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হালিমা বলেন, ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার নির্ধারিত দুটি ডোজ নিতে হবে। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সূচি অনুযায়ী টিকা নেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ কর্মসূচির অতিরিক্ত ডোজও নিতে হবে। শিশুদের অবশ্যই টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম বলেন, এবারের কর্মসূচিটি ‘মপআপ প্রোগ্রাম’। নিয়মিত কর্মসূচির বাইরে থেকে যেসব শিশু টিকা নেওয়া থেকে বাদ পড়েছে, তাদের চিহ্নিত করে টিকার আওতায় আনাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, যেকোনো রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে টিকাদানের পাশাপাশি সমাজ ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত সারা দেশে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। ওই কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হামের ছোবল, কাল থেকে বিশেষ টিকাদান

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে দ্বিতীয় দফায় শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

এ কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদেরও টিকা দেওয়া হবে। এবার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে বিশেষ টিকাদানের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

হামে আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, অনেক শিশুই অসুস্থ থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে টিকা নিতে পারেনি। জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা অন্য অসুস্থতার কারণে অনেক অভিভাবক টিকা দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম থেকে সুরক্ষায় শিশুদের শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে টিকা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্ধারিত বয়সে নিয়মিত টিকার পাশাপাশি বিশেষ কর্মসূচিতেও শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হালিমা বলেন, ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার নির্ধারিত দুটি ডোজ নিতে হবে। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সূচি অনুযায়ী টিকা নেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ কর্মসূচির অতিরিক্ত ডোজও নিতে হবে। শিশুদের অবশ্যই টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম বলেন, এবারের কর্মসূচিটি ‘মপআপ প্রোগ্রাম’। নিয়মিত কর্মসূচির বাইরে থেকে যেসব শিশু টিকা নেওয়া থেকে বাদ পড়েছে, তাদের চিহ্নিত করে টিকার আওতায় আনাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, যেকোনো রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে টিকাদানের পাশাপাশি সমাজ ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত সারা দেশে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। ওই কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।