সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, লুটপাট
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 67
রাজধানীর দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি হাউজিং প্রজেক্টে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওও তছনছ করা হয়েছে। হামলাকারীরা গুলি ছুড়ে আবাসন প্রকল্পে প্রবেশ করে কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ইসিবি চত্বরের পাশে নিউগিনি হাউজিং প্রজেক্টের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, মুখোশধারী শতাধিক ব্যক্তি চারটি পিকআপ ভ্যানে করে নির্মাণাধীন আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় আতঙ্ক ছড়াতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। হামলাকারীদের অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করে।
হামলায় আহত কয়েকজন জানান, হামলাকারীরা গেটের নিচ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে কয়েকজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত ও মারধর করা হয়।
প্রায় পাঁচ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা ওই আবাসন প্রকল্পে ১৭টি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন। কর্তৃপক্ষের দাবি, এর আগেও প্রায় দুই মাস আগে একই ধরনের হামলা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি, হুমকি-ধমকি ও জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল একটি পক্ষ।
নিউগিনি প্রোপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে বিভিন্নভাবে চাঁদা দাবি, হুমকি ও জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছিল। শনিবার রাতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি সেখানে এসে প্রধান ফটকে গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হামলাকারীরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় স্টুডিওর কর্মীদের মারধর এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। হাউজিং কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের অফিস থেকে প্রায় এক কোটি টাকা লুট করা হয়েছে।
ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক বক্তব্যে তিনি আইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নিজের হতাশার কথা জানান।
ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি ছুরি ও চারটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে বলে জানান ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন।
ওসি বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক কোনো বিরোধের কারণে নয়; ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সেনানিবাসের কাছাকাছি জনবহুল এলাকায় এমন হামলার ঘটনায় দক্ষিণ মানিকদীর বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
































