ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবার জন্য হেলথ কার্ড ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশেষ ছাড়

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / 144

নাগরিকের চিকিৎসা সংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে হেলথ কার্ডে।

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের সফলতার পর এবার দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ চালু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। মূলত আগামী জুলাই মাস থেকেই প্রথম ধাপে দেশের পাঁচটি বিশেষ জেলায় এই সুবিধার আওতাভুক্ত কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। জেলাগুলো হলো—বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, নরসিংদী এবং নোয়াখালী। পরবর্তীতে এই কার্যক্রমটি পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একটি মাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বা এক কার্ডে সংরক্ষিত থাকবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই হেলথ কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, হেলথ কার্ডের এই পুরো প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী নিজে সরাসরি দেখভাল করছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মূলত দেশের সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এই আধুনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এই ই-হেলথ কার্ডটি মূলত একটি ইলেকট্রনিক কার্ড, যা প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা একটি ‘ইউনিক আইডি’ বহন করবে। কার্ডটি পাঞ্চ করলেই মুহূর্তের মধ্যে রোগীর পুরনো রোগের ইতিহাস ও যাবতীয় মেডিকেল রেকর্ড ডিজিটাল ফরম্যাটে দেখা যাবে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকরা সরকারি ও নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশেষ ছাড় পাবেন। একই সাথে প্রতিটি নাগরিকের জন্য বছরে একবার বেসিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার বড় ধরণের সুযোগ থাকবে।

সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি একই সাথে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মতো বড় বড় দেশে স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল সেবা পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাগুলো থেকে সরকারকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশের মডেলের সাথে তুলনা করে সময় নষ্ট না করে কাজ শুরু করে দিতে হবে এবং পরবর্তীতে কাজের মধ্য দিয়েই তা সংশোধন করে নেওয়া যাবে। একই সাথে এই হেলথ কার্ডের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছাতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং হাসপাতালগুলোকে আরও ডেডিকেটেড করার আহ্বান জানান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সবার জন্য হেলথ কার্ড ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশেষ ছাড়

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের সফলতার পর এবার দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ চালু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। মূলত আগামী জুলাই মাস থেকেই প্রথম ধাপে দেশের পাঁচটি বিশেষ জেলায় এই সুবিধার আওতাভুক্ত কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। জেলাগুলো হলো—বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, নরসিংদী এবং নোয়াখালী। পরবর্তীতে এই কার্যক্রমটি পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একটি মাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বা এক কার্ডে সংরক্ষিত থাকবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই হেলথ কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, হেলথ কার্ডের এই পুরো প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী নিজে সরাসরি দেখভাল করছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মূলত দেশের সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এই আধুনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এই ই-হেলথ কার্ডটি মূলত একটি ইলেকট্রনিক কার্ড, যা প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা একটি ‘ইউনিক আইডি’ বহন করবে। কার্ডটি পাঞ্চ করলেই মুহূর্তের মধ্যে রোগীর পুরনো রোগের ইতিহাস ও যাবতীয় মেডিকেল রেকর্ড ডিজিটাল ফরম্যাটে দেখা যাবে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকরা সরকারি ও নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশেষ ছাড় পাবেন। একই সাথে প্রতিটি নাগরিকের জন্য বছরে একবার বেসিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার বড় ধরণের সুযোগ থাকবে।

সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি একই সাথে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মতো বড় বড় দেশে স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল সেবা পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাগুলো থেকে সরকারকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশের মডেলের সাথে তুলনা করে সময় নষ্ট না করে কাজ শুরু করে দিতে হবে এবং পরবর্তীতে কাজের মধ্য দিয়েই তা সংশোধন করে নেওয়া যাবে। একই সাথে এই হেলথ কার্ডের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছাতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং হাসপাতালগুলোকে আরও ডেডিকেটেড করার আহ্বান জানান।