শিবিরের বহিষ্কার, মুখ খুললেন আম্মার
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 12
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখার সাথী পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে সংগঠনটির আনা বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো প্রমাণ শিবির দিতে পারেনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব দাবি করেন আম্মার। এর আগে একই দিন রাবি শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সীর একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আম্মারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে শিবিরের তিনটি চিঠির বরাত দিয়ে তাঁর সাথী পদ স্থগিত ও বাতিলের তথ্য সামনে আসে।
শিবিরের চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, নৈতিক পদস্খলন, নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব অভিযোগকে ‘এলিগেশন’ বা অভিযোগমাত্র উল্লেখ করে আম্মার বলেন, তিনি যে কাজ করেননি, সেটি করেননি; এমন প্রমাণ দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, শিবির তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করলেও সেগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার অভিযোগ অস্বীকার করে আম্মার বলেন, ক্যাম্পাস জীবনে কোনো নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি এমন আচরণ করেননি, যা স্বাভাবিক সম্পর্কের বাইরে যায়। নিজের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন না তোলার আহ্বানও জানান তিনি।
অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে আম্মার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজশাহীর স্থানীয় শিক্ষার্থীরা একটি কমিটি নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিলেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তাঁর যোগাযোগ ভালো; এমন ধারণা থেকেই তাঁকে ওই কমিটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে কমিটি গঠনের আগে বা পরে তিনি এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলেও জানান।
নিজের বিরুদ্ধে ৭৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়েও পোস্টে ব্যাখ্যা দেন আম্মার। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন নিয়ে একটি কনসার্ট আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য সুপারিশপত্র দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই প্রস্তাবপত্র বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানিতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকেই পরে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
শিবিরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়েও অবস্থান তুলে ধরেন আম্মার। তিনি বলেন, সংগঠনটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁকে শিবিরের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে নিজের বক্তব্যও তুলে ধরেন তিনি।
ফাঁস হওয়া চিঠির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আম্মার। তাঁর দাবি, প্রকাশিত কাগজপত্র সংগঠনের নিজেদের হাতে তৈরি হতে পারে। শিবির তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করলেও কোনো প্রমাণ দেয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে রাবি শিবিরের বর্তমান সেক্রেটারি মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, আম্মারের বহিষ্কারসংক্রান্ত প্রকাশিত চিঠিগুলো সত্য। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালেই সালাউদ্দিন আম্মারকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে আম্মার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
রাকসু নির্বাচনে শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচিত ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন সালাউদ্দিন আম্মার। ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব পরে রাবি শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। আম্মারের শিবির-সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্যানেলটিকে ঘিরে আগের বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।














