ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাত পোহালেই ভোট

কে এম জাহেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 103

বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার শেষ হয়েছে একদিন আগে। এখন চলছে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি। কারণ বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন কাল। তাই নির্বাচন কমিশন (ইসি), রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা তাদের শেষ মুহূর্তের নির্বাচনি কাজগুলো গুছিয়ে নিচ্ছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ সক্রিয় দলগুলো তদের মাঠের কৌশল নির্ধারণ করছে। ভোটগ্রহণ সামনে রেখে সারাদেশে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, তেমনি রয়েছে সহিংসতার আশঙ্কাও।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে এবারের নির্বাচনে। সাথে যুক্ত হয়েছে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের নজরদারি। ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজারের বেশি সদস্য। এর সঙ্গে আছেন দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

দীর্ঘদিন পর মানুষ মুক্ত পরিবেশে উৎসবের ভোটে অংশ নিতে মুখিয়ে আছেন। ভোট দিতে ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের উদ্দেশে চলে গেছেন। ইসি আশা করছে, এ নির্বাচনে ৬০-৬৫ শতাংশ ভোট পড়বে।

বিগত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল। ওই তিন নির্বাচনের মধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর অংশগ্রহণ ছিল না। ওই তিন নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ একচেটিয়া জয় পায়। অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। দলটি এখন নির্বাচনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এ নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে।

আগের তুলনায় ভোটার সংখ্যা বেড়েছে। তাই ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তায় এবার বাড়তি আয়োজন রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কারচুপি এড়াতে সার্বক্ষনিক নজরদারীতে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা যুক্ত ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য। মাথার উপর নজরদারী করবে ৫০০ বেশি ড্রোন। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ১ লাখ সেনা সদস্য। নৌ এবং বিমান বাহিনীও থাকবে বিশেষ নজরদারিতে। এছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে বিজিবি ও কোষ্টগার্ড সদস্যরা।

ইসির তথ্যানুযায়ী, এ নির্বাচনে ভোট দেবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। ৩০০ আসনের মধ্যে সব চেয়ে কম ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে (২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন) এবং সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন)।

রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘সৌহার্দপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের অনেক প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠান আমরা সম্পন্ন করব। এই সুন্দর পরিবেশ বজায় রেখে ও যেসব জায়গায় কিছুটা হলেও এখনো পর্যন্ত টেনশন বিরাজমান সেগুলো যেন আর কন্টিনিউ না করে, সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।’

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘সবকিছু একটা ভঙ্গুর অবস্থা থেকে এতোবড় একটি নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছি। এবারের নির্বাচনের পরিবেশ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তবে, নির্বাচন কমিশন অধিকতর প্রচেষ্টা নিচ্ছে যাতে আরও ভালো একটি নির্বাচন আয়োজন করা যায়। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারে তৎপর থাকবে ফায়ার সার্ভিস। দিনশেষে সম্মিলিত চেষ্টায় গ্রহণযোগ্য ভোটের আয়োজন করতে চায় নির্বাচন কমিশন।’

নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এছাড়া প্রায় ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে বিদেশি সাংবাদিক রয়েছেন ১৫৬ জন।

তিনি আরও জানান, এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দুটি ব্যালট একই সঙ্গে গণনা করা হবে বলেও জানান সানাউল্লাহ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাত পোহালেই ভোট

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার শেষ হয়েছে একদিন আগে। এখন চলছে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি। কারণ বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন কাল। তাই নির্বাচন কমিশন (ইসি), রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা তাদের শেষ মুহূর্তের নির্বাচনি কাজগুলো গুছিয়ে নিচ্ছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ সক্রিয় দলগুলো তদের মাঠের কৌশল নির্ধারণ করছে। ভোটগ্রহণ সামনে রেখে সারাদেশে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, তেমনি রয়েছে সহিংসতার আশঙ্কাও।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে এবারের নির্বাচনে। সাথে যুক্ত হয়েছে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের নজরদারি। ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজারের বেশি সদস্য। এর সঙ্গে আছেন দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

দীর্ঘদিন পর মানুষ মুক্ত পরিবেশে উৎসবের ভোটে অংশ নিতে মুখিয়ে আছেন। ভোট দিতে ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের উদ্দেশে চলে গেছেন। ইসি আশা করছে, এ নির্বাচনে ৬০-৬৫ শতাংশ ভোট পড়বে।

বিগত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল। ওই তিন নির্বাচনের মধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর অংশগ্রহণ ছিল না। ওই তিন নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ একচেটিয়া জয় পায়। অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। দলটি এখন নির্বাচনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এ নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে।

আগের তুলনায় ভোটার সংখ্যা বেড়েছে। তাই ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তায় এবার বাড়তি আয়োজন রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কারচুপি এড়াতে সার্বক্ষনিক নজরদারীতে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা যুক্ত ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য। মাথার উপর নজরদারী করবে ৫০০ বেশি ড্রোন। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ১ লাখ সেনা সদস্য। নৌ এবং বিমান বাহিনীও থাকবে বিশেষ নজরদারিতে। এছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে বিজিবি ও কোষ্টগার্ড সদস্যরা।

ইসির তথ্যানুযায়ী, এ নির্বাচনে ভোট দেবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। ৩০০ আসনের মধ্যে সব চেয়ে কম ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে (২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন) এবং সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন)।

রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘সৌহার্দপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের অনেক প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠান আমরা সম্পন্ন করব। এই সুন্দর পরিবেশ বজায় রেখে ও যেসব জায়গায় কিছুটা হলেও এখনো পর্যন্ত টেনশন বিরাজমান সেগুলো যেন আর কন্টিনিউ না করে, সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।’

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘সবকিছু একটা ভঙ্গুর অবস্থা থেকে এতোবড় একটি নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছি। এবারের নির্বাচনের পরিবেশ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তবে, নির্বাচন কমিশন অধিকতর প্রচেষ্টা নিচ্ছে যাতে আরও ভালো একটি নির্বাচন আয়োজন করা যায়। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারে তৎপর থাকবে ফায়ার সার্ভিস। দিনশেষে সম্মিলিত চেষ্টায় গ্রহণযোগ্য ভোটের আয়োজন করতে চায় নির্বাচন কমিশন।’

নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এছাড়া প্রায় ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে বিদেশি সাংবাদিক রয়েছেন ১৫৬ জন।

তিনি আরও জানান, এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দুটি ব্যালট একই সঙ্গে গণনা করা হবে বলেও জানান সানাউল্লাহ।