রপ্তানি বাণিজ্যে গতি বাড়াতে প্রি-শিপমেন্ট ঋণ চালু হলো
- সর্বশেষ আপডেট ১২:১৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 5
রপ্তানি খাতের স্থবিরতা কাটাতে সুখবর দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার প্রি-শিপমেন্ট ঋণ সুবিধা চালু করেছে। মূলত ৫ শতাংশ সুদে ব্যবসায়ীরা এই ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। ফলে বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার হবে। বর্তমান সরকার ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন করে প্রি-শিপমেন্ট ঋণ সুবিধা চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো ২ শতাংশ সুদে তহবিল গ্রহণ করবে। এরপর গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ করা হবে। মূলত পণ্য জাহাজীকরণের আগের ব্যয় মেটাতে ব্যবসায়ীরা এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, ৫ শতাংশ সুদে এই তহবিল ব্যবসায়ীদের জন্য বড় স্বস্তি। আগে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ১২ থেকে ১৩ শতাংশ সুদ গুনতে হতো। বর্তমানে এই প্রি-শিপমেন্ট ঋণ চালু হওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক কমে আসবে। এছাড়া শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদানেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গত এপ্রিলে এই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় সংকটে পড়েছিলেন। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে এটি পুনরায় চালু করল। মূলত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং উৎপাদন সচল রাখতেই সরকার এই প্রি-শিপমেন্ট ঋণ বরাদ্দ দিয়েছে। এই স্কিমের মেয়াদ ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সুযোগ পাচ্ছেন।
কোনো একক প্রতিষ্ঠান একই সময়ে সুদসহ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবে। বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি পোশাক খাত চাপের মুখে রয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতেও এই প্রি-শিপমেন্ট ঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগে যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, এটি তারই প্রতিফলন। অবশেষে বলা যায়, এই প্রি-শিপমেন্ট ঋণ দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরও গতিশীল করবে।


































