ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কর আরোপ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / 79

অটোরিকশায় আয়কর

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। সিসিভেদে মোটরসাইকেলে বছরে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং এলাকাভেদে অটোরিকশায় ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাবে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সরকার রাজস্ব আয় বাড়াতে এবার যানবাহনের অগ্রিম আয়করের পরিধি আরও বিস্তৃত করছে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কোনো কর দিতে হবে না। তবে ১১১ সিসি থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা এবং এর উপরের সিসির বাইকের জন্য ১০ হাজার টাকা বার্ষিক কর দিতে হবে। মূলত মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কর আরোপ করার এই উদ্যোগটি বিআরটিএ-র ফিটনেস নবায়ন বা রোড ট্যাক্স জমা দেওয়ার সময় কার্যকর করা হবে।

বিআরটিএ-র তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার। করযোগ্য মোটরসাইকেল থেকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কর আরোপ নিয়ে খাত সংশ্লিষ্টরা কিছুটা উদ্বিগ্ন।

হোন্ডার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর এই অতিরিক্ত করের বোঝা বিক্রির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বড় একটি খরচ হিসেবে দেখা দেবে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, অগ্রিম কর পরিশোধ একটি বাড়তি বোঝা হলেও রাজস্ব আদায়ের প্রেক্ষাপটে এটি কার্যকর করা সম্ভব। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, এই অগ্রিম কর পরবর্তী সময়ে বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ পাবেন মালিকরা।

মূলত মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কর আরোপ করা হলেও তা সরাসরি ট্যাক্স ফাইলধারীদের জন্য সমন্বয়যোগ্য হবে। পরিশেষে বলা যায়, সরকারের এই পদক্ষেপ সফল হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় অংকের অর্থ যুক্ত হবে, যদিও সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কর আরোপ

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। সিসিভেদে মোটরসাইকেলে বছরে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং এলাকাভেদে অটোরিকশায় ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাবে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সরকার রাজস্ব আয় বাড়াতে এবার যানবাহনের অগ্রিম আয়করের পরিধি আরও বিস্তৃত করছে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কোনো কর দিতে হবে না। তবে ১১১ সিসি থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা এবং এর উপরের সিসির বাইকের জন্য ১০ হাজার টাকা বার্ষিক কর দিতে হবে। মূলত মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কর আরোপ করার এই উদ্যোগটি বিআরটিএ-র ফিটনেস নবায়ন বা রোড ট্যাক্স জমা দেওয়ার সময় কার্যকর করা হবে।

বিআরটিএ-র তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার। করযোগ্য মোটরসাইকেল থেকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কর আরোপ নিয়ে খাত সংশ্লিষ্টরা কিছুটা উদ্বিগ্ন।

হোন্ডার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর এই অতিরিক্ত করের বোঝা বিক্রির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বড় একটি খরচ হিসেবে দেখা দেবে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, অগ্রিম কর পরিশোধ একটি বাড়তি বোঝা হলেও রাজস্ব আদায়ের প্রেক্ষাপটে এটি কার্যকর করা সম্ভব। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, এই অগ্রিম কর পরবর্তী সময়ে বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ পাবেন মালিকরা।

মূলত মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কর আরোপ করা হলেও তা সরাসরি ট্যাক্স ফাইলধারীদের জন্য সমন্বয়যোগ্য হবে। পরিশেষে বলা যায়, সরকারের এই পদক্ষেপ সফল হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় অংকের অর্থ যুক্ত হবে, যদিও সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারে।