ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণ প্রমাণে চার সাক্ষীর শর্ত নিয়ে ভুল ধারণা: জাকির নায়েক

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 6

ইসলামী স্কলার ড. জাকির নায়েক। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণে চারজন সাক্ষীর বাধ্যবাধকতা আছে—এমন একটি প্রচলিত ধারণাকে ভুল বলে মন্তব্য করেছেন আলোচিত বক্তা ডা. জাকির নায়েক। তার ব্যাখ্যায় বিষয়টি ব্যভিচার (জিনা) ও ধর্ষণের পার্থক্য বুঝতে না পারার ফল বলেই উঠে আসে।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সমাজে ধর্ষণ-সংক্রান্ত আলোচনায় প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে—ভুক্তভোগীর পক্ষে কি চারজন প্রত্যক্ষদর্শী আনা বাধ্যতামূলক? এই ধারণাকে কেন্দ্র করেই ইসলামি আইন সম্পর্কে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জাকির নায়েক। তার মতে, জিনা বা ব্যভিচারের প্রমাণের শর্তকে ধর্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হলে পুরো বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইসলামি আইনে জিনা বলতে বোঝানো হয় দুই পক্ষের সম্মতিতে সংঘটিত অবৈধ সম্পর্ককে। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর শর্ত রয়েছে, যা মূলত চরিত্রহননের মতো গুরুতর অভিযোগ ঠেকাতে একটি কঠোর মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। কিন্তু ধর্ষণ সেখানে আলাদা একটি অপরাধ, যেখানে সম্মতির প্রশ্নই ওঠে না।

এই পার্থক্যটিকে কেন্দ্র করেই ইসলামি আইনবিদদের একটি বড় অংশ ধর্ষণকে “হিরাবাহ” বা সমাজে ভয়-ভীতি ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। কোরআনের সুরা মায়েদার ৩৩ নম্বর আয়াতের আলোকে তারা বলেন, সশস্ত্র ভয় দেখানো বা জোরপূর্বক অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। সেই কাঠামোর মধ্যেই ধর্ষণের শাস্তি ও বিচারপ্রক্রিয়া বিবেচিত হয়।

নায়েকের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্ষণের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষীর শর্ত প্রযোজ্য নয়। বরং দুইজন সাক্ষী, পারিপার্শ্বিক প্রমাণ এবং বিচারকের পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতিগত প্রমাণকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা ইসলামি ফিকহে আলোচিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের কথাও বিভিন্ন ব্যাখ্যায় পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, মতভেদ থাকলেও একটি বিষয়ে অধিকাংশ ইসলামি আইনবিদ একমত—ধর্ষণকে জিনার সমতুল্য ধরে চারজন সাক্ষীর শর্ত আরোপ করা সঠিক নয়। বরং অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রমাণ ও শাস্তির কাঠামো নির্ধারিত হয়।

একটি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় এক নারীর ওপর হামলার একটি ঘটনায় ভুল শনাক্তকরণ হলেও পরে প্রকৃত অপরাধী স্বীকারোক্তি দেয়। ওই ঘটনাকে তিনি দেখান যে, শুধু প্রত্যক্ষদর্শী নয়, অন্যান্য প্রমাণ ও বাস্তব পরিস্থিতিও বিচারপ্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ধর্ষণ প্রমাণে চার সাক্ষীর শর্ত নিয়ে ভুল ধারণা: জাকির নায়েক

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণে চারজন সাক্ষীর বাধ্যবাধকতা আছে—এমন একটি প্রচলিত ধারণাকে ভুল বলে মন্তব্য করেছেন আলোচিত বক্তা ডা. জাকির নায়েক। তার ব্যাখ্যায় বিষয়টি ব্যভিচার (জিনা) ও ধর্ষণের পার্থক্য বুঝতে না পারার ফল বলেই উঠে আসে।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সমাজে ধর্ষণ-সংক্রান্ত আলোচনায় প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে—ভুক্তভোগীর পক্ষে কি চারজন প্রত্যক্ষদর্শী আনা বাধ্যতামূলক? এই ধারণাকে কেন্দ্র করেই ইসলামি আইন সম্পর্কে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জাকির নায়েক। তার মতে, জিনা বা ব্যভিচারের প্রমাণের শর্তকে ধর্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হলে পুরো বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইসলামি আইনে জিনা বলতে বোঝানো হয় দুই পক্ষের সম্মতিতে সংঘটিত অবৈধ সম্পর্ককে। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর শর্ত রয়েছে, যা মূলত চরিত্রহননের মতো গুরুতর অভিযোগ ঠেকাতে একটি কঠোর মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। কিন্তু ধর্ষণ সেখানে আলাদা একটি অপরাধ, যেখানে সম্মতির প্রশ্নই ওঠে না।

এই পার্থক্যটিকে কেন্দ্র করেই ইসলামি আইনবিদদের একটি বড় অংশ ধর্ষণকে “হিরাবাহ” বা সমাজে ভয়-ভীতি ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। কোরআনের সুরা মায়েদার ৩৩ নম্বর আয়াতের আলোকে তারা বলেন, সশস্ত্র ভয় দেখানো বা জোরপূর্বক অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। সেই কাঠামোর মধ্যেই ধর্ষণের শাস্তি ও বিচারপ্রক্রিয়া বিবেচিত হয়।

নায়েকের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্ষণের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষীর শর্ত প্রযোজ্য নয়। বরং দুইজন সাক্ষী, পারিপার্শ্বিক প্রমাণ এবং বিচারকের পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতিগত প্রমাণকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা ইসলামি ফিকহে আলোচিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের কথাও বিভিন্ন ব্যাখ্যায় পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, মতভেদ থাকলেও একটি বিষয়ে অধিকাংশ ইসলামি আইনবিদ একমত—ধর্ষণকে জিনার সমতুল্য ধরে চারজন সাক্ষীর শর্ত আরোপ করা সঠিক নয়। বরং অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রমাণ ও শাস্তির কাঠামো নির্ধারিত হয়।

একটি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় এক নারীর ওপর হামলার একটি ঘটনায় ভুল শনাক্তকরণ হলেও পরে প্রকৃত অপরাধী স্বীকারোক্তি দেয়। ওই ঘটনাকে তিনি দেখান যে, শুধু প্রত্যক্ষদর্শী নয়, অন্যান্য প্রমাণ ও বাস্তব পরিস্থিতিও বিচারপ্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।