বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ ৪ কমিশনারের গণপদত্যাগ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / 102
অবশেষে নানামুখী তীব্র চাপ, নানা বিতর্ক ও কর্মকর্তা-বিনিয়োগকারীদের টানা আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তাঁর সাথে সংস্থার আরও চারজন কমিশনারও একযোগে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে এই পদত্যাগপত্রগুলো জমা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে চলমান চরম অস্থিরতা, সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের তীব্র ক্ষোভ এবং বিএসইসির অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষের জের ধরেই এই গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের তালিকা ও মেয়াদ
বিএসইসি থেকে আজ একযোগে পদত্যাগ করা চারজন কমিশনার হলেন:
- মু মহসীন চৌধুরী (যোগদান: ২ জুন ২০২৪)
- মো আলী আকবর (যোগদান: ২৮ আগস্ট ২০২৪)
- ফারজানা লালারুখ (যোগদান: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪)
- মো সাইফুদ্দিন (যোগদান: ২৯ জুলাই ২০২৫)
উল্লেখ্য, চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের মেয়াদে বিএসইসির শীর্ষ পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে নিজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই তীব্র গণক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁদের সবাইকে আজ বিদায় নিতে হলো।
এর আগে গত ২ জুন রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক একটি সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেই অনুষ্ঠান থেকে তিনি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসইসি (BSEC) পুনর্গঠন করার একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। মন্ত্রীর সেই প্রকাশ্য ও কড়া ঘোষণার পর থেকেই মূলত পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বড় ধরণের পরিবর্তনের বড় আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, যা আজ চূড়ান্ত রূপ নিল।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক মাস ধরেই বিএসইসির নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা ধরণের প্রতিবাদী কর্মসূচি ও কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন। কর্মকর্তাদের এই বিক্ষোভের পাশাপাশি সাধারণ শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরাও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (DSE) সামনে এবং বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে বিএসইসি পুনর্গঠনের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিলেন। পরিশেষে বলা যায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের এই বড় পরিবর্তনের পর এখন দেশের ধুঁকতে থাকা পুঁজিবাজারে আবার ইতিবাচক হাওয়া ফিরবে বলে আশা করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।





























