ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশি ইমামুরের চীনে ১০০ কিমি আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথন জয়

রীতা ভৌমিক, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 49

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১০০ কিলোমিটার ব্যাক টু ব্যাক আলট্রা ট্রেইল ম্যারাথন (ইউটিএমবি) জয়ী হয়েছেন আল্ট্রা রানার ইমামুর রহমান। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

চীনের মগাসানে ১০ এপ্রিল ১০০ কিমি আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করে তিনি ফিনিশ লাইনে লাল-সবুজের পতাকা উড়ান।

সেই মূহূর্তের স্মৃতিচারণ করে ইমামুর রহমান বলেন, দৌড় শুরুর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাতাস। দুর্গম, পিচ্ছিল পথ পেরুনো অসম্ভব হওয়ায় বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের অনেকেই পিছু হটছিলেন। কিন্তু আমার মনোবল অটুট রেখেছিলাম। অদম্য মানসিক শক্তিতে পুরো রেইস শেষ করেছিলাম।

তিনি আরো বলেন, ফিনিশ লাইনে যখন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করি, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্ব বোধ হচ্ছিল। কারণ সব বাধা পেরিয়ে আমি বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পেরেছি।

আলট্রা ট্রেইল মোগান বাই (ইউটিএমবি) চীনের রেইস ডিরেক্টর জেনলি মা তার এই সাহসী মনোভাব দেখে বলেছেন, ব্যাক টু ব্যাক ১০০ কিমি আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় কেউ অংশ নিতে চায় না। ফিজিক্যাল ফিট এবং মানসিক জোর না থাকলে প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই রেইস জেতা সম্ভব নয়। তুমি জিতেছো, তোমাকে অভিনন্দন। আগামীতে তুমি অংশ নিলে আমরা তোমাকে সম্মানিত করার আশা রাখি।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে প্রকৃত দূরত্ব ছিল প্রায় ৮০ কিলোমিটার এবং এলিভেশন গেইন ছিল ৪ হাজার ৬০০ মিটার। বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫ হাজার অ্যাথলেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ইমামুর রহমান ২০ ঘণ্টা ৩ মিনিটে এই দুর্গম পথ পাড়ি দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ দিনে ইমামুর রহমান তিনটি কঠিন ট্রেইল রেইস সম্পন্ন করে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। গত ১৫ মার্চ চীনের শিয়ামেনে ৯৭ কিলোমিটারের ইউটিএমবি ব্যাক টু ব্যাক ১৫৪ কিলোমিটারের রেইস এবং ২৯ মার্চ কংহুয়ায় ৩০ কিলোমিটারের ট্রেইল রেইস শেষ করেন তিনি।

এর আগে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে থাইল্যান্ডে ‘ইউটিএমবি এশিয়া মেজর’ সম্পন্ন করার গৌরব অর্জন করেছিলেন তিনি।

ইমামুর রহমান নিজ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাইব্রিড স্পোর্টসের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নেওয়ার।

তার এই সফলতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অনুশীলন, জীবনের ঝুঁকি নেওয়া, স্বপ্ন দেখা ও তা বাস্তবায়ন করা। ইমামুর রহমান বলেন, ২০২৩ সালে আমি প্রথম ইউটিএমবি ১০০ কিলোমিটারে অংশ নিই ।

“কিন্তু সেবার জয়ের স্বপ্নটা পূরণ হয়নি। ৬৮ কিলোমিটার যাওয়ার পরে এক্সিডেন্ট করি। এতে নানারকম কটূক্তিও শুনতে হয়েছে আমাকে। আনফিট আলট্রা রানার বলে উপহাস করেছেন কেউ কেউ। এই সব টুর্নামেন্টের জন্য আমি ফিট না, আমার ট্রেনিং প্ল্যান ঠিক নেই।”

কিন্তু আমি মনোবল হারাইনি। ২০২৪ এ একই টুর্নামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইউটিএমবি এশিয়া মেজর ১০০ কিলোমিটার ট্রেইলে অংশ নিয়ে জয়ী হই। ২০২৫ সালে ইউটিএমবি (গড়হঃ-ইষধহপ) সিসিসি খারাপ আবহাওয়ার কারণে কাট অফ পয়েন্ট মিস করি।

‘পেশাদার অ্যাথেলট না হয়েও নিজের আর্থিক খরচে তিনি দেশকে তুলে ধরেছেন বিশে^র কাছে । ইমামুর রহমান এই অর্জন গুলো সম্পর্কে বলেন, রানিং কমিউনিটি অথবা প্লাটফর্ম যাই হোক না কেনো, এটা একটা রাজনীতি। একজন খেলোয়াড় যত ভালোই করেন না কেন, তাদের সাথে মিশতে না পারলে একজন খেলোয়াড়ের অর্জন কিছুই না।’

আলট্রা ট্রেইল ম্যারাথনের প্রশিক্ষণ (ইউটিএমবি) সম্পর্কে ইমামুর রহমান বলেন, এই প্রশিক্ষণের মূল কথা হলো প্রকৃতির সাথে নিজেকে যুক্ত করা। এর প্রশিক্ষক এবং অনুশীলন করার পরিবেশ কোনটাই বাংলাদেশে নেই। পার্বত্য চট্টগামে পাহাড়ি এলাকায় থাকলেও সেখানে সবার পক্ষে গিয়ে অনুশীলন করা সম্ভব নয়।

‘আর এটি পাহাড়ি পথ ছাড়া অনুশীলন সম্ভব নয়। সেজন্য আমি জিমের মাধ্যমে হাইব্রিড টেনিং করি। দিনের দুই ঘন্টা বা সময় পেলে বেশিসময় অনুশীলন করি। তবে অনুশীলনটা নিয়মিত করি। কারণ এই রেসে ফিজিক্যাল ফিট এবং মানসিক প্রশান্তিটা বেশি জরুরি।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাংলাদেশি ইমামুরের চীনে ১০০ কিমি আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথন জয়

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১০০ কিলোমিটার ব্যাক টু ব্যাক আলট্রা ট্রেইল ম্যারাথন (ইউটিএমবি) জয়ী হয়েছেন আল্ট্রা রানার ইমামুর রহমান। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

চীনের মগাসানে ১০ এপ্রিল ১০০ কিমি আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করে তিনি ফিনিশ লাইনে লাল-সবুজের পতাকা উড়ান।

সেই মূহূর্তের স্মৃতিচারণ করে ইমামুর রহমান বলেন, দৌড় শুরুর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাতাস। দুর্গম, পিচ্ছিল পথ পেরুনো অসম্ভব হওয়ায় বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের অনেকেই পিছু হটছিলেন। কিন্তু আমার মনোবল অটুট রেখেছিলাম। অদম্য মানসিক শক্তিতে পুরো রেইস শেষ করেছিলাম।

তিনি আরো বলেন, ফিনিশ লাইনে যখন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করি, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্ব বোধ হচ্ছিল। কারণ সব বাধা পেরিয়ে আমি বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পেরেছি।

আলট্রা ট্রেইল মোগান বাই (ইউটিএমবি) চীনের রেইস ডিরেক্টর জেনলি মা তার এই সাহসী মনোভাব দেখে বলেছেন, ব্যাক টু ব্যাক ১০০ কিমি আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় কেউ অংশ নিতে চায় না। ফিজিক্যাল ফিট এবং মানসিক জোর না থাকলে প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই রেইস জেতা সম্ভব নয়। তুমি জিতেছো, তোমাকে অভিনন্দন। আগামীতে তুমি অংশ নিলে আমরা তোমাকে সম্মানিত করার আশা রাখি।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে প্রকৃত দূরত্ব ছিল প্রায় ৮০ কিলোমিটার এবং এলিভেশন গেইন ছিল ৪ হাজার ৬০০ মিটার। বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫ হাজার অ্যাথলেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ইমামুর রহমান ২০ ঘণ্টা ৩ মিনিটে এই দুর্গম পথ পাড়ি দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ দিনে ইমামুর রহমান তিনটি কঠিন ট্রেইল রেইস সম্পন্ন করে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। গত ১৫ মার্চ চীনের শিয়ামেনে ৯৭ কিলোমিটারের ইউটিএমবি ব্যাক টু ব্যাক ১৫৪ কিলোমিটারের রেইস এবং ২৯ মার্চ কংহুয়ায় ৩০ কিলোমিটারের ট্রেইল রেইস শেষ করেন তিনি।

এর আগে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে থাইল্যান্ডে ‘ইউটিএমবি এশিয়া মেজর’ সম্পন্ন করার গৌরব অর্জন করেছিলেন তিনি।

ইমামুর রহমান নিজ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাইব্রিড স্পোর্টসের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নেওয়ার।

তার এই সফলতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অনুশীলন, জীবনের ঝুঁকি নেওয়া, স্বপ্ন দেখা ও তা বাস্তবায়ন করা। ইমামুর রহমান বলেন, ২০২৩ সালে আমি প্রথম ইউটিএমবি ১০০ কিলোমিটারে অংশ নিই ।

“কিন্তু সেবার জয়ের স্বপ্নটা পূরণ হয়নি। ৬৮ কিলোমিটার যাওয়ার পরে এক্সিডেন্ট করি। এতে নানারকম কটূক্তিও শুনতে হয়েছে আমাকে। আনফিট আলট্রা রানার বলে উপহাস করেছেন কেউ কেউ। এই সব টুর্নামেন্টের জন্য আমি ফিট না, আমার ট্রেনিং প্ল্যান ঠিক নেই।”

কিন্তু আমি মনোবল হারাইনি। ২০২৪ এ একই টুর্নামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইউটিএমবি এশিয়া মেজর ১০০ কিলোমিটার ট্রেইলে অংশ নিয়ে জয়ী হই। ২০২৫ সালে ইউটিএমবি (গড়হঃ-ইষধহপ) সিসিসি খারাপ আবহাওয়ার কারণে কাট অফ পয়েন্ট মিস করি।

‘পেশাদার অ্যাথেলট না হয়েও নিজের আর্থিক খরচে তিনি দেশকে তুলে ধরেছেন বিশে^র কাছে । ইমামুর রহমান এই অর্জন গুলো সম্পর্কে বলেন, রানিং কমিউনিটি অথবা প্লাটফর্ম যাই হোক না কেনো, এটা একটা রাজনীতি। একজন খেলোয়াড় যত ভালোই করেন না কেন, তাদের সাথে মিশতে না পারলে একজন খেলোয়াড়ের অর্জন কিছুই না।’

আলট্রা ট্রেইল ম্যারাথনের প্রশিক্ষণ (ইউটিএমবি) সম্পর্কে ইমামুর রহমান বলেন, এই প্রশিক্ষণের মূল কথা হলো প্রকৃতির সাথে নিজেকে যুক্ত করা। এর প্রশিক্ষক এবং অনুশীলন করার পরিবেশ কোনটাই বাংলাদেশে নেই। পার্বত্য চট্টগামে পাহাড়ি এলাকায় থাকলেও সেখানে সবার পক্ষে গিয়ে অনুশীলন করা সম্ভব নয়।

‘আর এটি পাহাড়ি পথ ছাড়া অনুশীলন সম্ভব নয়। সেজন্য আমি জিমের মাধ্যমে হাইব্রিড টেনিং করি। দিনের দুই ঘন্টা বা সময় পেলে বেশিসময় অনুশীলন করি। তবে অনুশীলনটা নিয়মিত করি। কারণ এই রেসে ফিজিক্যাল ফিট এবং মানসিক প্রশান্তিটা বেশি জরুরি।’