প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ আয়োজনে চরম বিশৃঙ্খলা
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 35
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে শত শত নেতাকর্মী তার সঙ্গে দেখা করতে নিউইয়র্কে এলেও শেষ পর্যন্ত অনেকেই সাক্ষাতের সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে তারেক রহমানের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হলেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান।
বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা হোটেলে এলেও হাতেগোনা কয়েকজনের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাতের সুযোগ হয়। বাকিরা বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। একপর্যায়ে হট্টগোল শুরু হলে নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করা হয়।
নেতাকর্মীদের হইচইয়ের পর হোটেলের আশপাশে নিউইয়র্ক পুলিশ ও সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের উপস্থিতিও দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নেতারা এ ঘটনায় আয়োজকদের সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, নেতাকর্মীদের নিয়ে শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে নিউইয়র্কে এসেছিলেন তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য। কয়েকজন নেতাকর্মী কয়েক দিন ধরে হোটেলে অবস্থান করলেও সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। এ ধরনের অব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের দায়ী করে তিনি বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।
নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা বলেন, তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে মাত্র অল্পসংখ্যক নেতা প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের অনেকে বাইরে থাকায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
বোস্টন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ বদরে আলম সাইফুল বলেন, নেতাকর্মীরা আশা করেছিলেন তারেক রহমানকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। কিন্তু সেই আয়োজনও হয়নি। পরে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।
ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। তবে তার সঙ্গে আসা অনেক নেতাকর্মী সাক্ষাৎ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি নিজেও মর্মাহত।
নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ অলিউল্লা আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেকে তার সঙ্গে দেখা করতে না পারায় নেতাকর্মীদের কাছে তারা কোনো জবাব দিতে পারছেন না। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ চৌধুরী বলেন, তার কমিটির অনেক নেতাকর্মী সাক্ষাতের আশায় এসেছিলেন। কিন্তু তারা সুযোগ পাননি। এ ঘটনায় আয়োজকদের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ফ্লোরিডা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. মাসুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নিজেদের খরচে নিউইয়র্কে এসেছিলেন। কিন্তু তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে না পারায় তারা হতাশ হয়েছেন।
টেক্সাস থেকে আসা এক বিএনপি কর্মী বলেন, নেতাকে একনজর দেখার জন্য শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে নিউইয়র্কে এসেছিলেন। কিন্তু আয়োজকদের ব্যবস্থাপনার কারণে তারা হোটেলের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাননি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর শেষে শুক্রবার রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।






























