পুলিশের নির্দেশনা নিয়ে আসক’র উদ্বেগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 141
পুলিশের কথিত ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’ গ্রহণ ও জামিনে মুক্তিপ্রাপ্তদের পুনরায় গ্রেপ্তারের নির্দেশনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি বলেছে, বেআইনি গ্রেপ্তার, হয়রানি কিংবা ‘শ্যোন-অ্যারেস্ট’ ধরনের চর্চা বন্ধ করে নাগরিকের ন্যায়বিচার, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আসক জানায়, সাম্প্রতিক গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে- কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের “অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা” নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জামিনে মুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অন্য মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশনার অভিযোগ রয়েছে। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আইনের শাসন ও মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী।
প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ-এর রাজশাহী রেঞ্জ পর্যায়ের এক লিখিত নির্দেশনায় জামিনপ্রাপ্তদের “দলকে সংগঠিত বা শক্তিশালী করার সক্ষমতা” বিবেচনায় পুনরায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। আসকের মতে, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা সম্ভাব্য সাংগঠনিক ভূমিকার আশঙ্কার ভিত্তিতে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভিযোগ ও প্রমাণ থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব; তবে পূর্বধারণা বা পরিকল্পিত হয়রানি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সংস্থাটি আরও প্রশ্ন তুলেছে- এ ধরনের নির্দেশনার আইনি ভিত্তি কী এবং পুলিশ প্রশাসন কোন এখতিয়ারের আলোকে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একটি নবনির্বাচিত সরকারের কাছে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকার থাকে উল্লেখ করে আসক বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ সংবিধানসম্মত হওয়া আবশ্যক।
আসকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদসমূহ নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও আইনের সমান সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। ফলে কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যথাযথ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ব্যবস্থা নিতে হবে; উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার বা পুনরায় আটক দেখানো আইনের শাসনের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে আসক অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার আইনি ভিত্তি প্রকাশ, এ-সংক্রান্ত আদেশসমূহ পুনর্মূল্যায়ন এবং সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি মানবাধিকারসম্মত আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদারের আহ্বানও জানানো হয়েছে।


































