ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীতিমালা ছাড়া হকার উচ্ছেদ অভিযান ব্যর্থ হবে: আইপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 82

হকার ব্যবস্থাপনায় টেকসই নীতিমালার দাবি আইপিডির

ঢাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযানকে টেকসই করতে সামগ্রিক নীতি, আইন ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা জরুরি বলে মত দিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। শুধু উচ্ছেদ নয়, বরং কাঠামোগত সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক হকার উচ্ছেদ অভিযানকে সাময়িকভাবে সফল হিসেবে দেখা গেলেও এর স্থায়ী সমাধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইপিডি। সংস্থাটির মতে, বিকল্প কর্মসংস্থান ও নগর দারিদ্র্য মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।

আইপিডি মনে করে, রাজধানীর ফুটপাতকেন্দ্রিক হকার ব্যবসার পেছনে একটি জটিল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো কাজ করছে। চাঁদাবাজি, অবৈধ সিন্ডিকেট এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ—এসব চিহ্নিত না করে শুধু হকার উচ্ছেদ করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উচ্ছেদের পরও অনেক জায়গায় হকাররা আবার ফিরে এসেছে এবং কোথাও অবৈধ দখল ও পার্কিংয়ের মতো নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উচ্ছেদ অভিযানের সময় কিছু এলাকায় পথচারীদের চলাচল সহজ হলেও, দীর্ঘস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পরিস্থিতি দ্রুতই আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। পাশাপাশি উচ্ছেদের সুযোগে নতুন করে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বও সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আইপিডি আরও বলেছে, ঢাকার মতো মেগাসিটিতে এখনো কার্যকর কোনো হকার নীতিমালা বা আইন না থাকা একটি বড় ঘাটতি। ফলে অভিযানগুলো অনেকটাই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিণত হচ্ছে, যেখানে কাঠামোগত সংস্কার অনুপস্থিত থেকে যাচ্ছে।

সংস্থাটির মতে, হকার উচ্ছেদের আগে যারা এই ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে—লাইনম্যান, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট—তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। না হলে সমস্যার মূল শিকড় অক্ষত থেকে যাবে।

আইপিডি মনে করে, ঢাকার ফুটপাতকে দেশের দারিদ্র্যের চাপ বহনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বরং এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা, পুনর্বাসন এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন।

সংস্থাটি হকার সমস্যার টেকসই সমাধানে দশ দফা প্রস্তাবও দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পিত হকার জোন নির্ধারণ, ডিজিটাল লাইসেন্সিং ও ডাটাবেজ তৈরি, পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প বাজার ও হলিডে মার্কেট স্থাপন, এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ।

এছাড়া হকারদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা এবং দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মসংস্থান বিস্তারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

আইপিডির মতে, কেবল উচ্ছেদ নয়, বরং অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা, নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয় ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নীতিমালা ছাড়া হকার উচ্ছেদ অভিযান ব্যর্থ হবে: আইপিডি

সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযানকে টেকসই করতে সামগ্রিক নীতি, আইন ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা জরুরি বলে মত দিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। শুধু উচ্ছেদ নয়, বরং কাঠামোগত সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক হকার উচ্ছেদ অভিযানকে সাময়িকভাবে সফল হিসেবে দেখা গেলেও এর স্থায়ী সমাধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইপিডি। সংস্থাটির মতে, বিকল্প কর্মসংস্থান ও নগর দারিদ্র্য মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।

আইপিডি মনে করে, রাজধানীর ফুটপাতকেন্দ্রিক হকার ব্যবসার পেছনে একটি জটিল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো কাজ করছে। চাঁদাবাজি, অবৈধ সিন্ডিকেট এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ—এসব চিহ্নিত না করে শুধু হকার উচ্ছেদ করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উচ্ছেদের পরও অনেক জায়গায় হকাররা আবার ফিরে এসেছে এবং কোথাও অবৈধ দখল ও পার্কিংয়ের মতো নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উচ্ছেদ অভিযানের সময় কিছু এলাকায় পথচারীদের চলাচল সহজ হলেও, দীর্ঘস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পরিস্থিতি দ্রুতই আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। পাশাপাশি উচ্ছেদের সুযোগে নতুন করে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বও সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আইপিডি আরও বলেছে, ঢাকার মতো মেগাসিটিতে এখনো কার্যকর কোনো হকার নীতিমালা বা আইন না থাকা একটি বড় ঘাটতি। ফলে অভিযানগুলো অনেকটাই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিণত হচ্ছে, যেখানে কাঠামোগত সংস্কার অনুপস্থিত থেকে যাচ্ছে।

সংস্থাটির মতে, হকার উচ্ছেদের আগে যারা এই ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে—লাইনম্যান, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট—তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। না হলে সমস্যার মূল শিকড় অক্ষত থেকে যাবে।

আইপিডি মনে করে, ঢাকার ফুটপাতকে দেশের দারিদ্র্যের চাপ বহনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বরং এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা, পুনর্বাসন এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন।

সংস্থাটি হকার সমস্যার টেকসই সমাধানে দশ দফা প্রস্তাবও দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পিত হকার জোন নির্ধারণ, ডিজিটাল লাইসেন্সিং ও ডাটাবেজ তৈরি, পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প বাজার ও হলিডে মার্কেট স্থাপন, এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ।

এছাড়া হকারদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা এবং দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মসংস্থান বিস্তারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

আইপিডির মতে, কেবল উচ্ছেদ নয়, বরং অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা, নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয় ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।