ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৪২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • / 20

নিউমোনিয়ায় মৃত্যু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আলোচনা থাকলেও শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি। শুক্রবার (১৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু নিউমোনিয়ায় প্রাণ হারাচ্ছে, যা বছরে প্রায় ২৪ হাজার।

অন্যদিকে, গত দুই মাসে হাম ও হাম সদৃশ উপসর্গে ৪৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বুকের দুধ খাওয়ানো এবং সময়মতো টিকাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে হামের সংক্রমণ বাড়লেও শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে নিউমোনিয়াকে চিহ্নিত করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিশু বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

মূলত নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক হওয়ার পেছনে বিশেষজ্ঞদের মতে নীরবে প্রতিদিনের প্রাণহানি দায়ী। তারা জানান, হামে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হলেও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেক বেশি শিশু মারা যাচ্ছে।

অধ্যাপক ডা. জিয়াউল হক জানান, গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়ায় চলতি বছরের মার্চ থেকে হামের প্রকোপ বেড়েছে। গত দুই মাসে প্রায় ৫৪ হাজার শিশু হাম সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।

বর্তমানে নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর একটি কারণ হলো হামের পরবর্তী জটিলতা। হাম আক্রান্ত শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে তারা খুব সহজেই নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, দেশে বর্তমানে মাত্র ৫৬ শতাংশ শিশু বুকের দুধ পায় এবং বাকিদের প্যাকেটজাত খাবারে অভ্যস্ত করা হচ্ছে, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বর্তমানে নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিশুদের পুষ্টি ও সময়মতো হাসপাতালের চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা সতর্ক করেছেন যে, হামে আক্রান্ত ১ শতাংশ শিশুর মস্তিষ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পরিশেষে বলা যায়, হামের টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতাই পারে এই অকাল শিশুমৃত্যু রুখতে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক

সর্বশেষ আপডেট ০২:৪২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আলোচনা থাকলেও শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি। শুক্রবার (১৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু নিউমোনিয়ায় প্রাণ হারাচ্ছে, যা বছরে প্রায় ২৪ হাজার।

অন্যদিকে, গত দুই মাসে হাম ও হাম সদৃশ উপসর্গে ৪৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বুকের দুধ খাওয়ানো এবং সময়মতো টিকাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে হামের সংক্রমণ বাড়লেও শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে নিউমোনিয়াকে চিহ্নিত করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিশু বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

মূলত নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক হওয়ার পেছনে বিশেষজ্ঞদের মতে নীরবে প্রতিদিনের প্রাণহানি দায়ী। তারা জানান, হামে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হলেও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেক বেশি শিশু মারা যাচ্ছে।

অধ্যাপক ডা. জিয়াউল হক জানান, গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়ায় চলতি বছরের মার্চ থেকে হামের প্রকোপ বেড়েছে। গত দুই মাসে প্রায় ৫৪ হাজার শিশু হাম সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।

বর্তমানে নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর একটি কারণ হলো হামের পরবর্তী জটিলতা। হাম আক্রান্ত শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে তারা খুব সহজেই নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, দেশে বর্তমানে মাত্র ৫৬ শতাংশ শিশু বুকের দুধ পায় এবং বাকিদের প্যাকেটজাত খাবারে অভ্যস্ত করা হচ্ছে, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বর্তমানে নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিশুদের পুষ্টি ও সময়মতো হাসপাতালের চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা সতর্ক করেছেন যে, হামে আক্রান্ত ১ শতাংশ শিশুর মস্তিষ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পরিশেষে বলা যায়, হামের টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতাই পারে এই অকাল শিশুমৃত্যু রুখতে।