মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যা
নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / 24
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হচ্ছে। সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আজ সোমবার (৮ জুন) থেকে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আজ প্রথমে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই মামলার মূল সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ শুরু হবে।
হাইপ্রোফাইল এই হত্যা মামলায় মোট ২৮ জন আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।
অন্যদিকে, সাবেক মন্ত্রী নানক ও মেয়র তাপস ছাড়াও এই মামলার সিংহভাগ আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের তালিকায় রয়েছেন ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।
এর আগে, গত ১০ মে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মধ্য দিয়ে এই ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত থাকা গ্রেপ্তার চার আসামি নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। আদালত এরপর আজ ৮ জুন মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন।
প্রসিকিউশনের দায়েরকৃত মামলার নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ব্যাপক নৃশংসতা চালায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লী, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উসকানি, প্ররোচনা এবং উপস্থিতিতেই জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। সেই রক্তক্ষয়ী হামলায় মাহমুদুর রহমান সৈকত এবং ফারহান ফাইয়াজসহ মোট ৯ জন নিহত হন এবং গুলিতে আহত হন আরও অসংখ্য আন্দোলনকারী।





































